প্রতিস্থাপনের পরও সিএনজি অটোরিক্সায় শৃঙ্খলা ফেরেনি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, সোমবার: প্রতিস্থাপনের পরও সিএনজি অটোরিক্সায় শৃঙ্খলা ফেরেনি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের যাত্রী সাধারণের বাহন হিসেবে পরিচিত দেশীয় প্রাকৃৃতিক গ্যাসে নামমাত্র খরচে পরিচালিত সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় মালিক, চালক, সরকার মিলে যাত্রীস্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে ০৪ দফা ইকোনমিক লাইফ ও ০৪ দফা যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি, পরে একই মালিকের হাতে নতুন অটোরিক্সা তুলে দিয়েও এই সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির অভিযোগ সর্বশেষ ভাড়া নির্ধারণে এক লাফে যাত্রী ভাড়া ৬০ ভাগ বাড়িয়েও এই সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি।
আজ ১১ মার্চ সোমবার দেশের গণমাধ্যমে প্রেরিত এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করা হয়। “প্রতিস্থাপনের পর কেমন চলছে অটোরিক্সা?” এই শিরোনামে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা গত ০১ থেকে ১০ মার্চ সপ্তাহ ব্যাপী রাজধানীর ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ২৫৬টি অটোরিক্সায় যাত্রী সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এই সময়ে ৩১০ জন অটোরিক্সা যাত্রীর সাথে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটোরিক্সার ৯৮ ভাগ চুক্তিতে চলাচল করছে। মিটারে চলাচলকারী অটোরিক্সার ৯২ শতাংশ ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া বা বকশিস দাবী করে। তবে বৃষ্টি বা সরকারি ছুটির আগেরদিন অথবা গণপরিবহন সংকটকালীন সময়ে এই বকশিসের পরিমাণ ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৮৮ ভাগ অটোরিক্সা।
এছাড়াও পর্যবেক্ষণকালে প্রাইভেট অটোরিক্সা ভাড়ায় যাত্রী বহন এবং ঢাকা জেলার অটোরিক্সা বেআইনীভাবে ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রবেশ করে ৬২ শতাংশ গাড়ী মিটার বিহীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ি, সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেইট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফেন্টরোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর, মহাখালী এলাকা ঘুরে উপরোক্ত চিত্র দেখা গেছে। এসকল অনিয়ম প্রতিরোধে পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত উক্ত এলাকায় বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ বা অন্যকোন সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়েনি। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, রাত ৯ টার পর এবং সকাল ৮ টার আগে কোন অটোরিক্সা মিটারে চলছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া বা অটোরিক্সা চালকের পছন্দের গন্তব্যের সাথে মিললেই কেবল যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয়। চুক্তিতে চলাচলকারী অটোরিক্সায় মিটারের ভাড়া থেকে সর্বনিন্ম ৫০ শতাংশ সর্বোচ্চ ৭১০.৮১ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যা অ্যাপস ভিত্তিক চলাচলকারী ১৩০০-১৫০০সি.সি. প্রাইভেট কারের ভাড়ার চেয়েও বেশি।
পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে প্রতীয়মান হয় যে, গত ১৫ বছরে ঢাকা মহানগরীর যাত্রী সংখ্যা এবং যাত্রীসাধারণের ক্রয় ক্ষমতা প্রায় ০৩ গুণ বৃদ্ধি পেলেও একটি অটোরিক্সাও বাড়েনি। যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় এই বাহনের সংখ্যা কম থাকায় চালকদের ইচ্ছার কাছে যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে জিম্মি হয়ে আছে। অটোরিক্সা সংকটের কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়েও গোপনে চুক্তিতে যাতায়াতে করছে যাত্রীসাধারণ। পর্যবেক্ষণকালে অধিকাংশ যাত্রী চুক্তিতে যাতায়াত করলেও চালকের শিখিয়ে দেয়া বাক্য মিটারে চলছে বলে মিথ্যা বলতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে যাছাই-বাছাই কালে প্রমাণিত হয়। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের টোলের নামে নেওয়া চাঁদা, ফ্লাইওভারের টোল ও যানজটের জরিমানা ওয়েটিং বিলের নামে পুরোটাই যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীসাধারণ অত্র সংগঠনের পর্যবেক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেন।
অটোরিক্সার সংকট নিরসনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশমালা ঃ
১। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় মহানগরীতে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার নতুন অটোরিক্সা নামানোর উদ্যোগ নেওয়া।
২। গণমালিকানার পরিবর্তে কোম্পানীভিত্তিক অথবা অ্যাপস ভিত্তিক অটোরিক্সা পরিচালনার ব্যবস্থা করা।
৩। মিটারবিহীন ও প্রাইভেট অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ।
৪। জমা ও ভাড়া বৃদ্ধি, সিলিং নির্ধারণ, মনিটরিং কমিটিতে যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিত্ব রাখা।
৫। নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলাচলকারী অটোরিক্সা ১ বছর আটক রাখার বিধান করা।
৬। আমদানী শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া।
৭। নতুন অটোরিক্সা নিবন্ধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*