প্রতিটি ১ টাকা দামের বড় লিচু ক্রেতারা কিনছেন ৩ টাকায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : পার্বত্য চট্টগ্রামের শত শত নৌকা-লঞ্চ কাক ডাকা ভোর থেকে ভিড় করে আছে ঘাটে। গা ঘেঁষে সারি বেধে থাকা এসব নৌকায় বহু পরিশ্রমের ফলন নিয়ে হাজির প্রান্তিক চাষীরা। তাদের চেষ্টা ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের। ব্যাপারীরাও ছাতা মাথায় দিয়ে নৌকায়-নৌকায় ছুটে চলছে পণ্য সংগ্রহে। চারদিকে হৈ চৈ, একটুখানি দাঁড়িয়ে অবসর নেয়ার সময় নেই কারও। বুধবার পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বনরূপা বাজার সমতা ঘাটে গ্রীষ্মকালীন ফল কেনাবেচায় ব্যস্ত চাষী-ব্যাপারীদের চিত্র এটি। পাশাপাশি রাঙ্গামাটির ঘাগড়া বাজার, তবলছডড়ি বাজার, ভেদভেদী বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও দেখা যায় গ্রীষ্মকালীন ফলের সমাহার। গ্রীষ্মের এ সময়টাতে রসালো ফল আনারস,lichi-- কাঁঠাল, লিচু আর আমের সুঘ্রাণে মৌ মৌ করছে পার্বত্যাঞ্চলের চারদিক। বাতাসে ভেসে থাকা ফলের অকৃত্রিম গন্ধে ভরে যাচ্ছে মন-প্রাণ। চাষীরা কেউ মাথায় আবার কেউ পিঠে ঝুড়ি বোঝাই করে নিয়ে আসছেন এসব পণ্য। কেউ আবার আসছেন দুর্গম পাহাড়ী এলাকার ৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পাহাড়ী পথ পায়ে হেঁটে। শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী পুরুষ সকলেই নিজেদের গাছের ও চাষের আনারস, কাঁঠাল, লিচু, আম, কলা সহ বিভিন্ন রকমের ফল নিয়ে ভিড় করছেন বাজারে। সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার অধিকাংশ বাজারের হাটবার হলেও এ মৌসুমে প্রতিদিনই বাজারগুলোতে দেখা যায় রসালো ফলের বিপুল কর্মযজ্ঞ। এ সময় ব্যাপারীরা চাষীদের কাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করেন। তেমনি ফল সংগ্রহ করতে এসেছেন চট্টগ্রাম শহরের ফল ব্যবসায়ী ফয়সাল। তিনি বলেন, ফল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস ধরে রাঙ্গামাটিতে আছি। এখান থেকে তরমুজ, আনারস, কাঁঠাল, লিচু, আম সরবরাহ করছি চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে। তিনি জানান, বনরূপা বাজারের সমতা ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ নৌকা আসে। শুভলং, নানিয়ারচর, লংগদু, বন্দুকভাঙ্গা কাট্টলীসহ দুর্গম এলাকা থেকে নৌকা-লঞ্চে করে পাহাড়ীরা তাদের ফলন নিয়ে আসে। প্রতিদিনই প্রায় ৫০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি হয়। Mangoঅন্যান্য ঘাটগুলোর চিত্র প্রায় একই রকম। তবে বাজারে মৌসুমী ফলের এ রমরমা ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাই। দেশি ফলের সরবরাহ প্রচুর হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষীরা। অনেকটা নামমাত্র মূল্যে নিজেদের কষ্টের ফলন তুলে দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের হাতে। বন্দুকভাঙ্গা থেকে আসা প্রান্তিক চাষী কিরণ চাকমা জানান, নিজের আমবাগানের দেশি জাতের আম নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। প্রতিদিন ১০০ আমের এক ঝুড়ি আম ৫০০ টাকায় বিক্রি করলেও বুধবার সকাল থেকে বাজার দর পড়ে গেছে। এখন ১০০ আম মাত্র ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হলো। যদি আম বিক্রি না হয় তবে তা বাড়িতে ফিরে নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। তাই নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হলো ব্যাপারীর কাছে। অন্যদিকে ব্যাপারীরা মহাব্যস্ত ফল সংগ্রহ করে তা ট্রাক বোঝাই করে শহরে পৌঁছাতে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপারীরা মাত্র ২০ টাকায় একজোড়া আনারস, ৪০-৬০ টাকায় একটি বড় সাইজের কাঁঠাল, প্রতিটি এক টাকা দামে বড় লিচু সংগ্রহ করছে। কিন্তু ক্রেতাদের হাতে এসে পৌঁছানো মাত্রই আনারস হয়ে যাচ্ছে জোড়া ৮০ টাকা, কাঠাঁল ৮০-১২০ টাকা, লিচু ৩ টাকা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: