প্রচারণায় সুবিধাজনক অবস্থানে খালেদা জিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এখন সরকারে ও বিরোধী দলে নেই। এমপিও নন। এই কারণে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসাবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় কোন বাধাPM-khaleda নেই। তিনি চাইলেই সেটা কাজে লাগাতে পারেন। প্রার্থীদের পক্ষে তিনি ভোট চাইতে পারেন। বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছেও সেই রকমই। বিএনপি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকছে এমন সিদ্ধান্ত নিলেই তিনি প্রচারণায় নামবেন। ব্যাপক প্রচারণা চালাবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার সুযোগ থাকলেও তিনি একবার পহেলা বৈশাখে একটি বক্তৃতা করলেও এরপর আর কোন বক্তব্য দেননি। তিনি কবে কখন নামবেন প্রচারণায় এটা এখনও চূড়ান্ত না হলেও বিষয়টি খেয়াল রাখছে সরকার ও সরকারি দল। খালেদা জিয়া প্রচারণার ক্ষেত্রে সব দিকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সরকার ও সরকারি দল হিসাবে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসাবে শেখ হাসিনা কিছুটা হলেও বেকায়দায় রয়েছেন। তিনি কোন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কোন বক্তব্যও এখন দিতে পারবেন না। যদিও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়ার দিনেই মন্ত্রিপরিষদে তার মনোনীত প্রার্থী হিসাবে উত্তরের প্রার্থী আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করেন। ওই সময়ে তিনি প্রচারণা পেয়ে যান। এছাড়া তাকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন। সাঈদ খোকনকেও পরিচয় করে দেন দলের নেতাদের সঙ্গে ও অন্যান্যদের সঙ্গে। সূত্র জানায়, বিএনপির নেতারা আতœগোপনে আছেন বলে প্রচারণায় আসতে পারছেন না। কিন্তু তাদের পক্ষে কাজ করছে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন, শত নাগরিক কমিটি। উত্তর ঢাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটি করে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদকে। আর দক্ষিণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহকে। তাদের সঙ্গে কাজ করছেন আরো কয়েকজন নেতা। এরমধ্যে সাবেক কয়েকজন মন্ত্রীও রয়েছেন। তারা এখন কথা বলছেন। প্রচারণাও চালাচ্ছেন নানাভাবে। চট্টগ্রামেও বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে প্রধান করে বেশ কয়েকজন নেতা তাদের দলের সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম এর পক্ষে কাজ করছেন। প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়াও আরো নানা ধরনের প্রচারণা চলছে। এই বিবেচনায় সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতারা এখন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধির কারণে মাঠে নামতে পারছেন না। সরকারি দলের প্রার্থীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন প্রচারণার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে এমন অভিযোগ বিএনপির প্রার্থীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগও তোলা হচ্ছে। বিএনপির উত্তরে প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, আমাদের প্রচারণার কাজে বাধা আসছে। এই জন্য আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছি। এখন অনেক কথাই বলা যাচ্ছে না। আবার এটাও ঠিক যে, আমাদের দলের নেতা কর্মীদের অনেকেরই নামে মিথ্যে মামলা রয়েছে। হয়রানীও করা হচ্ছে। গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। কিন্তু কমিশন এখনও পর্যন্ত নিজেরা দায়িত্বশীল হিসাবে কাজ করছে না। আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীরা মাঠে নিজেরা ও তাদের লোকবল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে সরকারের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন বিএনপির সঙ্গে জনগণ নেই, এই কারণে তাদের প্রার্থীদের জনগণ ভোট দিবে না। সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে, তাই সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীদের মানুষ ভোট দিবে। কারণ তারা জানে যে নগরীর উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা বেশি পেতে হলে সরকারি দলের প্রার্থীরাই পারবে। সূত্র জানায়, সরকারি দল চাইছে না এই নির্বাচনে বিএনপির কাছে তাদের পরাজয় হোক। তারা তিনটি মেয়র পদে জয় ছাড়াও কাউন্সিলর পদেও বেশি সংখ্যক কাউন্সিলর চাইছেন। সেই হিসাবে আওয়ামী লীগ যা যা করণীয় এর সবই করছে। কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপি চেয়ারপরসন ১ বৈশাখ নির্বাচনী বক্তৃতা করায় ও আরো ব্যাপক প্রচারণায় নামার খবরে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিকে আর্দশ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বিরোধী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায় ভয়ঙ্কর বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে শুক্রবার অভিযোগ করেছেন। বলেন, একদিকে ক্ষমতাসীন দলের ১৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে। আর বিরোধী দলের সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী জামিন পাচ্ছেন না। এটি ভয়ঙ্কর বৈষম্যমূলক আচরণ। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আরো বলেছেন, সাঈদ খোকনের বক্তব্যে একটি শব্দ আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন জান বাঁচাতে চাইলে ইলিশ মার্কায় ভোট দিন। এটা একটা হুমকি। এরকম কথা শুনতেও খারাপ লাগে। এমাজউদ্দীন আরো বলেন, আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাইছি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা। নাহলে ভোটাররা হতাশ হবে। সূত্র জানায়, বিএনপির প্রচারণা চালাতে অনেক সুবিধা। বিএনপি চেয়ারপারসন তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বিরোধী দলের নেতা, এছাড়াও একটি বড় দলের প্রধান। এই কারণে খালেদা জিয়া মাঠে প্রচারণায় প্রার্থীর পক্ষে নামলে সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীরাও কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছে তিনি নামলে ভোটের উপর এর প্রভাব পরবে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে ভোট হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। সেই হিসাবে ফলও বদলে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে সরকারি দল বিষয়টি বিবেচনা করছে। খালেদা জিয়া মাঠে নামলে কিভাবে তাদের প্রচারণা চালানো হবে এর বিকল্পও ভাবা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রধানমন্ত্রী পুত্র ও তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারনায় নামানো হতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের একটি বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়া মাঠে নামলে ও প্রচারণা করলে সরকারি দল অবস্থা বিবেচনা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এই জন্য জয় মাঠে নামা ছাড়াও সরকারের মন্ত্রীরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে না পারলেও খালেদা জিয়ার প্রচারণার উপর নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে পারবেন। শুক্রবার খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় নামলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এই জন্য কমিশনকেও বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি এখনও পর্যন্ত সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নিশ্চিত নয় যে তারা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না ? কিংবা থাকতে দিবে কিনা? নাকি তারা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং হচ্ছে না অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জন করে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে। কারণ এখনও নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করছে না। তাতে মনে হচেছ বিএনপিকে তারা নির্বাচনে রাখতে চাইছে না। সরকারের দিক থেকেও নানা ধরনের চেষ্টা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি আর সেটা করেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আমরা সেনা মোতায়েন চেয়েছি সাতদিন আগে থেকে। সেটারও কোন লক্ষণ দেখছি না। রোববারের বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হবে। এরপর বিএনপি সিদ্ধান্ত নিবে। তবে এখনও বিএনপি চাচ্ছে নির্বাচনে থাকার। শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। কারণ সব কিছুই নির্বাচন কমিশনের উপর নির্ভর করছে। এখনও কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি। যেটা করে বিএনপিকে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত রাখার চেষ্টা তারা করবে কিনা। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাঠে নামবেন। প্রচারণা চালাবেন দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে। এদিকে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারেন এই রকম বিষয়টি সরকারের কাছে রয়েছে। তিনি মাঠে নামার পর যাতে করে জনগণের মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় সেই জন্য সরকারের মন্ত্রীরা তার বিরুদ্ধে বলছেন। কেমন করে বিএনপিকে ঠেকাতে হবে সেটাও বলছেন। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া মাঠে নামলে জয় দেশে আসতে পারেন। আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন বলেও দলটির সিনিয়র নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে তিনি সরকার প্রধানের উপদেষ্টা হিসাবে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে বিএনপির। বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, তিনি তো সরকারেরই অংশ। চাইলেও নামতে পারবেন না। যদিও সরকার বলতে পারে তিনি বেতনভুক্ত নন। কিন্তু তা না হলেও তিনি তো সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সেই হিসাবে নির্বাচনীয় প্রচারণায় নামলে বিষয়টি আমরা মেনে নেবা না। নির্বাচন কমিশনও জানাবো। সেই অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। সূত্র : আমাদের সময়.কম

Leave a Reply

%d bloggers like this: