প্রগতির ১৬৫ কোটি টাকা মওকুফ চায় বিআরটিসি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার পয়সা নেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) হাতে। চাকরিজীবন শেষে যাঁরা অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের পাওনাও পরিশোধ করতে পারছে না। কূলকিনারা হারানো বিআরটিসি নিজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী এক বছরের বেতন-ভাতা চালু রাখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুদান হিসেবে ২১ কোটি টাকা চেয়ে আবেদন করেছে। সেখান থেকেও কোনো আশ্বাস মেলেনি এখনো।
অভাবী বিআরটিসির এই অবস্থার মধ্যে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে একটি পত্র পাওয়ার পর। কিস্তিতে সুদসহ মূল্য পরিশোধের শর্তে প্রগতির কাছ থেকে ৫৪৭টি বাস, সিটিবাস ও ট্রাক কিনেছিল বিআরটিসি। সুদাসলে এখনো সেখানে বকেয়া রয়েছে ২২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পত্র পাঠিয়ে সেই টাকা চেয়ে বসেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আর কোনো উপায় না দেখে সুদের ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা মওকুফ পাওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বিআরটিসি। গত ২৮ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বেতন-ভাতা দিতে না পারার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বলেছে, বিআরটিসিতে বর্তমানে স্থায়ীভাবে নিয়োজিত জনবলের সংখ্যা তিন হাজার ১৫৭ জন। সচল-অচল মিলিয়ে সংস্থাটির গাড়িবহরে মোট বাস-ট্রাক রয়েছে এক হাজার ৬৭৭টি। গত কয়েক বছরে বিআরটিসির অপারেটিং আয় থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও সরকার ২০১৫ সালে নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বিআরটিসির নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ এক বছরের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য ২১ কোটি টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে থোক দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে বিআরটিসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অপূর্ব কুমার স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের পাওনা মওকুফের অনুরোধ করে বলা হয়েছে, বিআরটিসি ১৯৯৮ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের শর্তে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে মোট ৫৪৭টি বাস, সিটিবাস ও ট্রাক সংগ্রহ করে। এসব গাড়ির ক্রয়মূল্য ছিল ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ চার হাজার টাকা। এর মধ্যে বিআরটিসি এককালীন (ডাউন পেমেন্ট) ও কিস্তিসহ মোট ৬৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার ৩০২ টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে মূল ঋণের ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ টাকা পাওনা রয়েছে। সম্প্রতি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে আসল ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ টাকা, বকেয়া সুদ বাবদ ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৪ হাজার ৩০২ টাকাসহ মোট ২২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে গাড়ি কেনার সুদ বাবদ ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৭ টাকা মওকুফ চেয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রগতি থেকে যানবাহন ক্রয় বাবদ সুদাসলসহ মোট পাওনা পরিশোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বিআরটিসির জন্য দ্বিতল ও একতলা এসি, নন-এসি বাস সংগ্রহ শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে আলোচনাকালে এই সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়। একনেক সভার ওই সিদ্ধান্ত তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ঋণের টাকায় ক্রয়কৃত বিআরটিসির বাসগুলোর ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, অর্থ বিভাগ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির মাধ্যমে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে ব্যবস্থা করতে হবে। ’

Leave a Reply

%d bloggers like this: