প্রকাশ হলো আসল বিএনপির মুখপাত্রের ‘নেতৃত্ব’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : দেশীয় রাজনীতির নেতৃত্বের জায়গাটি মুষ্টিমেNasiয় কয়েকজন ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত না রেখে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ‘আসল বিএনপি’র মুখপাত্র কামরুল হাসান নাসিম। শুক্রবার (মে ২৯) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনের বর্ধিত অংশ নবাবে অনুষ্ঠিত একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। কামরুল হাসান নাসিমের লেখা ‘নেতৃত্ব’ প্রকাশনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাম্রলিপি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তাম্রলিপির প্রকাশক একেএম তারিকুল ইসলাম রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জব্বার হোসেন। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ইফতেখার আলম নয়ন, সৈয়দ কামরুল হাসান, এম এ মালেক শান্ত, জনি আল ফারাবী, জামির হোসাইন, মিশুক মোবারক সাকিব মোহম্মদ, মেহরাব পিয়াস, রাশেদ মানিক, আয়শা এরিন, সুজন ঢালী, ফরহাদ মিয়া পলাশ, মেহেদী হাসান জুয়েল, বিএম নাইম আহমেদ ইমন, রাসেল মিয়া ও মো. তারেক রহমান নামের ১৭ তরুণের হাতে নিজের লেখা বইটি তুলে দেন কামরুল হাসান নাসিম। এসময় তিনি বলেন, ‘১ মিনিট ১৭ সেকেন্ড কেউ নিশ্বাস বন্ধ করে থাকতে পারলে তার পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব। কারণ, শেষের ১৭ সেকেন্ড খুবই সিগনিফিকেন্ট। সে জন্যই আমি ‘১৭’ সংখ্যা বেছে নিয়েছি।’ নিজের বই সম্পর্কে নাসিম বলেন, ‘আমার বইটি বিক্রি হোক- এমনটি প্রত্যাশা করি না। আমি শুধু চাই বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বড় একটা অংশ আমার বইটি পড়ুক। কারণ, আমার চিন্তাগুলো মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই।’ নেতৃত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার খোকার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পর বাংলাদেশে কোনো নেতৃত্বের জন্ম হয়নি। এখন যাদের তরুণ নেতৃত্ব ভাবা হচ্ছে তারা উত্তারাধিকার সূত্রে পাওয়া প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিনের স্বপ্ন দেখছেন।’ নাসিম বলেন, ‘নেতৃত্ব কারও জন্য নির্ধারিত করে না রেখে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। মেধা, যোগ্যতা, সততা, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলীর উৎকর্ষতায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসবে। দু’তিনজন মানুষের হাতে নেতৃত্বের ইজারা দেয়া যাবে না।’ মোদির সফর নিয়ে বাংলাদেশের বাড়াবাড়ির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা অতিথিপরায়ণ জাতি। প্রতিবেশী দেশের সরকার প্রধানকে আমরা আতিথেয়তা দেব- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মোদির সফর নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখে মনে হচ্ছে তিনিই আমাদের অভিভাবক।’ সাপ্তাহিক কাগজ সম্পাদক জব্বার হোসেনের সঞ্চালনায় উঠে আসে বইটির উৎকর্ষের নানা দিক। যেখানে তিনি বলেন, ‘নেতৃত্ব ইস্যুতে এত গোছালো লেখনি বাংলা ভাষা কেন অন্য ভাষাতেও আছে কিনা সন্দেহ। ম্যাকিয়াভেলি এক সময় নানা সূত্র দিলেও বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে কামরুল হাসান নাসিম যা করেছেন তা একটা সময় সামাজিক বিপ্লবের মেধাভিত্তিক ভাবনার উদ্রেকের সৃষ্টি করবে।’ অন্যদিকে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, ‘আমি মুলত সামাজিক ক্রমবিকাশের মতবাদ ভিত্তিক গবেষণায় আপ্লুত আছি এবং নয়া তাত্ত্বিক মত রাখার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে- যা উপন্যাস আকারে এই বছরেই বাজারে আসতে পারে।’ এদিকে তাম্রলিপি প্রকাশিত বইটির ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘মানুষের আশা-আকাঙ্খা পুরণের বাস্তবতায় এবং স্বপ্নের তাত্ত্বিক কাঠামোগত প্রায়োগিক নির্দেশনা সম্পন্ন করতে আদেশক্রমে অনুরোধের সক্রিয় ধারাবাহিক সফল চরিত্রই হলো নেতৃত্ব।’ লেখক পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ‘কামরুল হাসান নাসিম একাধারে দার্শনিক, রাজনীতিক, আবৃত্তিকার, কলামিস্ট, কবি, নির্মাতা এবং নিজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রশ্নে বিপ্লবী সত্ত্বা। সব ধরনের ধারা ভাঙ্গার এক অদম্য চরিত্র এই কামরুল হাসান নাসিম। সমকালীন রাজনীতির শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবেও অনেকের রায় এই রাজনীতিকের ওপরেই।’ বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মকে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। ১১০ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: