প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হকারদের ধাওয়া দেওয়া ছাত্রলীগ নেতার সন্ধান পায়নি পুলিশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর, রবিবার: প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হকারদের ধাওয়া দেওয়া ও ফাঁকা গুলি ছোড়া ছাত্রলীগের সেই দুই নেতার সন্ধান তিন দিনেও পায়নি পুলিশ। এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের দাবি, শাহবাগ ও পল্টন থানার পুলিশ মিলে তাদের সন্ধানে কাজ করছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।1
গত বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের দুই নেতা অবৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে হকারদের ভয় দেখান এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা বা জিডি হয়নি। শুধু হকার উচ্ছেদের বিষয়ে জিডি করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানা ও পল্টন মডেল থানা মিলে ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বুধবার গুলিস্তানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালান। এ সময় হকারদের সঙ্গে ডিএসসিসির কর্মচারী ও একদল যুবকের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। যুবকদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির ও আশিকুর পিস্তল ও রিভলবার উঁচিয়ে পুলিশ-র‌্যাবের সামনেই হকারদের ধাওয়া করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। সাব্বির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আশিকুর ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক বিন রশিদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি অস্ত্র বৈধ হলেও সেটি অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।2

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্র সাব্বিরের বাসা পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে। আর আশিকুর থাকেন ওয়ারীর র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটে। তিনি ওয়ারীর একটি কলেজ থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন।
সিদ্দিকবাজার ও ওয়ারীর র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিটের স্থানীয় মানুষ ও দলীয় কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, সাব্বির ও আশিকুরের কাছে আগে রিভলবার কিংবা পিস্তল ছিল না। ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পর তাদের হাতে এই অস্ত্র আসে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: