পেরেক বসানো লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পিটালেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ ফেব্র“য়ারী: পুলিশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। আর নির্যাতনে এবার পেরেক বসানো লাঠির ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।pein
এ ঘটনার পরপরই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আলো নিভিয়ে হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা। হামলা চালানোর সময় মঙ্গল ‘রায়’ নামের একজনকে ধরে ফেলেন পড়ুয়ারা। পরে টিভি ক্যামেরার সামনে তিনি স্বীকারোক্তি দেন, তৃণমূলের এক নেতাই তাঁকে হামলা চালানোর জন্য টাকা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসে অনশন করছিলেন কয়েক জন শিক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে দেরি করে। এর মধ্যেই মার্চে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অল্প সময়ে শেষ হয়নি পাঠ্যক্রম। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।
পড়ুয়াদের এই দাবি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা ১০ দিন পেছালেও পড়ুয়াদের দাবি, ছিল এক মাস পিছানোর। এই দাবিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন চালাচ্ছিলেন ১০ শিক্ষার্থী।
এর জেরেই শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ লাঠিসোটা নিয়ে কিছু যুবক অনশনকারীদের ওপর চড়াও হয়। আলো নিভিয়ে মারধরের পাশাপাশি তাঁদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আহতদের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে ছিল পেরেক পোঁতা লাঠি। ঘটনাস্থল থেকে তেমন লাঠিও উদ্ধার করেছেন তাঁরা।
তবে , এত কিছুর পরও ছাত্রদের পাশে না দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বলেন, সব গেটে তালা দিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।
তবে এ ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন স্থানীয় এসএফআই নেত্রী মধুজা সেনরায়।
তিনি বলেন, মেরুদণ্ডহীন অপদার্থ উপাচার্যের বিরুদ্ধে আমরা রাজ্যপালের কাছে যাব।
এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুলিশের মার খেয়েছিলেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল বিভ্রাটের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দিতে ঢুকলে আগে থেকে ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ বেদম পিটা করে শিক্ষার্থীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*