পূণ্যের বসন্তকাল মাহে রমজান

এম সোলাইমান কাসেমী, ০৪ জুন ২০১৭, রবিবার: ইসলামে রোজা পালন শুধুমাত্র কতগুলি নিষেধাজ্ঞার সমষ্টিই নয় যে, মানুষ পানাহার করবেনা, জৈবিক চাহিদা পূরণ করবেনা, পরনিন্দা করবেনা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না। বরং এরই সাথে আদেশাবলীও অন্তরর্নিহিত, যেমন রমজান মাস হলো ইবাদত,কুরআন তিলাওয়াত,জিকির-তাসবিহ,পারস্পরিক সহানুভূতি সংবেদনশীলতার মাস। এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের মর্যাদা বেড়ে যায় বহুগুণ। নবী কারিম ( সা:) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ বরকতময় মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় একটি নফল কাজ করবে সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে একটি ফরজ আদায় করলো সে যেন সত্তরটি ফরজ আদায় করলো। এ মাস ধৈর্যের মাস। ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এ মাস সহানুভূতি – সমবেদনার মাস। যে ব্যক্তি রোজা পালনকারীকে ইফতার করাবে সে রোজা পালন করার সম-পরিমাণ সাওয়াব পাবে। কিন্তু এতে রোজা পালনকারীর সাওয়াব কমবে না। রোজা পালনের সাথে আর এক বিশেষ আমল রয়েছে তারাবীহ’র নামাজ। এর প্রমাণে প্রিয়নবী ( সা:) ইরশাদ করেন, ” আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন আর আমি তারাবীহ’র নামাজ পড়ার মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ তোমাদের জন্যে সুন্নাত করেছি। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্হাপন করে সাওয়াবের আশায় তারাবীহ’র মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। ” এ দিকগুলো বিবেচনা করলে বলতে হয়, রমজান মাস হলো – ইবাদতের উৎসব, তিলাওয়াতের মওসুম, পূণ্যবান ও মুত্তাকী লোকদের জন্যে পূণ্যের বসন্তকাল, আবেদ ও রিয়াজতকারীদের জন্যে ঈদ। অতএব, পূণ্যের এ বসন্তকালে প্রতিটি মুসলিম নিজেকে ইবাদতে বেশি বেশি নিমগ্ন রেখে উভয় জগতে সাফল্য অর্জন করা উচিত। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক :  শিক্ষক ও এম.ফিল গবেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*