পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৩৭তম সাধারণ সভা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: পুলিশের কাছ থেকে শতভাগ সেবা পেতে তাদের জন্য সেনাবাহিনীর মতো আলাদা আবাসিক এলাকার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, তাদের ৯০-৯৫ শতাংশ কর্মকর্তা থাকেন সাধারণ্যের এলাকায়। তাহলে তারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী দমনের মতো কাজে নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন কীভাবে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৩৭তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ দাবি জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অুনষ্ঠিত ওই সভায় অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আবাসন সংকটের পরিসংখ্যান দিয়ে আছাদুজ্জামান দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের আবাসন সমস্যা প্রচ-, স্যার। আমাদের ১০০ জনের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা আছে পৌনে তিনজনের (২.৯)। আর কারো নাই। আমার দারোগা সাহেব থাকেন লোকালয়ে, আমার ইন্সেপেক্টর থাকেন লোকালয়ে, এসপি থাকেন লোকালয়ে।’
ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘সে (লোকালয়ে থেকে) যদি জঙ্গি দমন করে, সন্ত্রাসী দমন করে, তাহলে তো ওর বাড়িতে বৌ-ছেলেমেয়েকে ঘেরাও দেবে। তার নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নেই। তাহলে সে কীভাবে মানুষের নিরাপত্তা দেবে?’
অন্য বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের আবাসনের তুলনা করতে গিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে, অন্য বাহিনীতে তাদের রেসট্রিকটেড আবাসিক এলাকা রয়েছে। আমার ৯০-৯৫ শতাংশ অফিসার থাকে পাবলিক প্লেসে। সে যদি জঙ্গি দমন করে তাহলে ওই এলাকায় তার পরিবার-পরিজনের ওপর হামলা হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আমাদের আবাসিক এলাকা করে দিতে হবে, যদি আমাদের কাছ থেকে পুরো সার্ভিসটা পেতে হয়।’
পুলিশ বাহিনীতে এখন মেধাবীরা যোগ দিচ্ছেন বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তাই তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে আরো জনবান্ধব পুলিশিং সম্ভব বলে জানান তিনি।
মন্ত্রীদের উদ্দেশে আছাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা ইউএন মিশনে কাজ করে যে অনন্য সম্মান অর্জন করেছে, বাংলাদেশেও এটা আমরা করতে পারি। এত মেধাবী ছেলে- ডক্টর, ব্যারিস্টার, এমবিএ- কী নেই। আমরা হতবাক হয়ে যাই এত মেধাবী ছেলে পুলিশে এসেছে। তাদের যত উপরে নিয়ে যাবেন, জনবান্ধব প্রকৃত পুলিশ প্রোঅ্যকটিভ পুলিশিং ক্ষমতা তাদের রয়েছে। আমাদের আবাসিক সংকটটা আপনি মেহেরবানি করে দেখবেন, স্যার।’
পুলিশের অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার কথা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মঘণ্টা আছে, শুধু পুলিশের কোনো কর্মঘণ্টা নেই। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে এই রাজারবাগ প্রথম শত্রুমুক্ত করেছিলাম আমরা। আমরা সেই মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার। আমরা সব সময় মানুষের পাশে থেকেছি।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশকে সম্মানিত করেছিলেন উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন এই গণতান্ত্রিকে দেশে পুলিশের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে না পারলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না। তাই তিনি পুলিশকে মর্যাদা দিয়েছিলেন।’ কিন্তু ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক জান্তারা সেই সম্মান কেড়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘আবার জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা আমাদের সেই গৌরব ফিরিয়ে দিয়েছেন।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে পুলিশ পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর ডিএমপি কমিশনার ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজত-কাণ্ড, ২০১৪ সালে বিএনপির নির্বাচন বর্জন ও সহিংস আন্দোলন, ২০১৫ সালে তিন মাস ধরে হরতাল-অবরোধ, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘স্যার, আমাদের পাওয়া-না পাওয়ার অনেক কিছুই আছে; প্রধানমন্ত্রী ও এই সরকার আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। তবে এখনো আমাদের মর্যাদার কিছু বিষয় রয়েছে। আমাদের আইজিপি কোনো পদ নয়, আমাদের অহংকার, শৌর্য-বীর্যের প্রতীক। আমাদের আইজিপিকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দিতে হবে। এটা আমাদের অধিকার। আপনজনের কাছে এটা আমাদের অধিকার। এটা দেবেন, স্যার।’
ডিএমপি কমিশনার মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আপনাদের পাশে আছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কোনোভাবে কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গির স্থান হবে না, হতে দেওয়া হবে না। তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। কিন্তু আমাদের ন্যায সম্মানটুকু, প্রাপ্যটুকু আপনারা বিবেচনা করবেন, আমি সেই অনুরোধ রাখব।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: