পুলিশ বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ সহিংস করে তুলবে : অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পেট্রলবোমা হামলার জবাবে পুলিশ বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতি আরও সহিংস করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে 000এ মন্তব্য করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বোমা হামলাসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ২৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষক আব্বাস ফয়েজ জানান, এ ধরনের পদক্ষেপের মানে হল পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের ওপর অপ্রয়োজনে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানানো। অতীতেও বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর নজির আছে। ক্ষেত্রবিশেষে এটা পুলিশকে বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারেও উস্কে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মান অনুযায়ী পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করা যাবে। পুলিশি অভিযানে হতাহতের সংখ্যা যেন একদমই কম হয়, সে ব্যাপারেও তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এ ছাড়া নিতান্তই বাধ্য না হয়ে আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা যাবে না। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে সরকার সমর্থক ও সরকারবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে। তাদের কেউ কেউ মুক্তি পেলেও আটক আছেন অনেকে। আন্দোলন ও পেট্রলবোমা সম্পর্কে জানানো হয়, গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে এ পর্যন্ত বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে বিরোধী দলের পেট্রলবোমা হামলায় ২৫ জনেরও বেশি নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকার থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিক্ষোভের ধরন বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতার দিকেই যাচ্ছে। গবেষক আব্বাস ফয়েজ আরো জানান, বিএনপির উচিত সমর্থক ও সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে উৎসাহিত করা। সব রাজনৈতিক দলেরই উচিত তাদের সদস্য ও সমর্থকদের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য যেকোনো তদন্তে সহায়তা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: