পুলিশ কী না পারে…

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ হাজী শাহ আলম নামে ৬২ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। আর পুলিশ ধর্ষণের দায়েpolice কিশোরীর বড় ভাই সফুর আহমদকে (১৮) গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সর্বত্র। ধর্ষণের এ ঘটনায় চলছে এখন ত্রিমূখী যুদ্ধ। বৃদ্ধ শাহ আলমের বিচার চেয়ে চলছে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন। অন্যদিকে চলছে বৃদ্ধ শাহ আলমের টাকার খেলা। যার নেশায় বুদ পুলিশ ও স্থানীয় কতিপয় সংবাদকর্মী। যারা শাহ আলমের পক্ষ নিয়ে পুলিশের সাজানো নাটক অনুযায়ী সংবাদ প্রচার করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। পুলিশের সাজানো নাটকের সংলাপ অনুযায়ী ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষিতার বড় ভাই সফুর আহমদের বিরুদ্ধেও থানায় মামলা দায়ের করেন মা। অবশ্যই এর আগে ধর্ষিতার রিকশাচালক বাবা ধর্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। এ সময় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পুলিশ ধর্ষক শাহ আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর মধ্যরাতেই উল্টে যায় গণেশ। পাল্টে যায় মামলার আকৃতি। ছেড়ে দেওয়া হয় শাহ আলমকে। গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয় ধর্ষিতার ভাই সফুর আহমদকে। আর এতেই ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। গত শনিবার দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ইছাখালি এলাকায় ধর্ষক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার, ধর্ষিতার ভাইয়ের মুক্তি ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শত শত এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বৃদ্ধ শাহ আলম স্থানীয় সমাজপতি। যিনি ধর্ষিতা কিশোরীকে নাতনি সম্বোধন করতেন। এ সুবাধে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বৃদ্ধ শাহ আলম। পরে কিশোরী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। যা কিশোরীর মা গত ৭ মে বিষয়টি শাহ আলমকে জানান। এ সময় বৃদ্ধ শাহ আলম ঘটনা গোপন রাখার ও গর্ভপাত করানোর পরামর্শ দেন। শাহ আলম স্থানীয় মরিয়মনগর ইউনিয়নের একটি ক্লিনিকে শিশুর গর্ভপাত করানোর জন্য নিয়ে যেতে কিছু টাকা গুজে দেন তার মার হাতে। শিশুর মা ওই ক্লিনিকে গেলে ডা. জনি কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ওই রাতেই গর্ভপাত হয় কিশোরীর। এতে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা জানাজানি হয় এলাকায়। ধর্ষিতার বড় ভাই সোচ্চার হলে এলাকাবাসী বৃদ্ধ শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এরপর গা ঢাকা দেন শাহ আলম। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ কিশোর সফুর আহাম্মদকে নির্যাতন করে গর্ভপাতের জন্য সে-ই দায়ী মর্মে স্বীকারোক্তি আদায় করে। একই রকম স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় ধর্ষিতাকেও এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীর মাকে দিয়ে অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাঙ্গুনিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহ আলমকে থানায় আনা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষিতার কিশোর ভাইকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ওই কিশোর তার বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আর শিশুটিও তার ভাইকে দায়ী করেছে। তাই এই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিলক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ ও শিলক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ বাদশা এ প্রসঙ্গে বলেন, শাহ আলমই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন প্রকৃত দোষীকে আড়াল করতে ন্যাক্কারজনকভাবে ধর্ষিতার কিশোর ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। এলাকাবাসীর পক্ষে এই ঘটনার প্রতিবাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের এই নেতারা বলেন, প্রকৃত দোষী শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন চলবে। সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

%d bloggers like this: