পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, শুক্রবার: বিদায়ী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে আশানুরূপ গতি অর্জন হয়নি। নির্বাচনী বছর উপলক্ষে বাজার ছিলো মন্থর গতি-এমনটাই মনে করেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেএএম মাজেদুর রহমান। বিদায়ী এ বছরে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, সূচক কমেছে ৮৫৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট। ফলে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এসবের ফলে বিনিযোগকারীদের পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন কমেছে ৩৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (২৭ডিসেম্বর) ডিএসই থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাজারের সার্বিক সম্পর্কে তিনি বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে যুক্ত করা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক৷ তাদের অন্তভুক্তি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷ বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে৷ তিনি বলেন, নির্বাচনী বছর উপলক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাজার কিছুটা গতি মন্থর দেখা গেছে৷ কিন্ত তারপরও আশানুরূপ যে গতি অর্জন করার কথা ছিল তা অর্জন করতে না পারলেও দেশের পুঁজিবাজার এমন একটি মাত্রায় অবস্থান করতে পেরেছে যার ফলে বাজারে তেমন কোন সংকট দেখা দেয়নি৷
মাজেদ আরো বলেন, এ বছরে নতুন কিছু প্রোডাক্ট চালু করার কথা ছিল যেমন এসএমই এবং অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড৷ এই বিষয়ে ডিএসই প্রযুক্তিগত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে৷ নতুন বছরের প্রারম্ভেই ডিএসই নতুন এ বিষয়গুলো চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷ একটি উন্নত ও কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে৷ নতুন বছরের বাজেটে প্রণোদনা পাওয়া সাপেক্ষে বন্ডমাকেটও শিগগিরই চালু করা সম্ভব৷ এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিশেষ করে একটি ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ বাজারে আনা প্রয়োজন৷ এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে৷ আগামী বছর আমরা এটি চালু করতে পারবো বলে দৃঢ় বিশ্বাস৷ সব চাইতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমরা করতে পারবো কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ৷ আশা করি নতুন বছর এব অজর্নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের এক নতুন মাত্রা যোগ হবে৷ এমডি বলেন, দেশের অর্থনীতির বর্তমান উন্নয়নধারা ও ডিএসই’র গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের বাস্তবায়নের আগামী দিনে দেশের পুঁজিবাজার হবে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল৷ সকলের সহযোগীতায় ডিএসই ভবিষ্যতে এশিয়ার নেতৃস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জের সারিতে পরিণত হবে৷ নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে পুঁজিবাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে সামনে এগিয়ে নেয়াই হবে মূল লক্ষ্য৷

Leave a Reply

%d bloggers like this: