পিরোজপুরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে ২ জনকে যাবজ্জীবন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও সেই ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের মো. জুয়েল সিকদার (২৪) ও একই ইউনিয়নের হায়দার আলী শেখ (৩৬)।
রায় ঘোষণার সময় হায়দার আলী আদালতে উপস্থিত থাকলেও জুয়েল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৮ জুলাই সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। এ সময় একই গ্রামের ওই জুয়েল ও হায়দার আলী মেয়েটিকে জোর করে সড়কের পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। এরপর জুয়েল মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। আর হায়দার আলী মোবাইলে সেই ছবি তোলেন। এরপর তারা মেয়েটিকে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। মেয়েটি ভয়ে এ ঘটনা কাউকে বলেনি। পরে জুয়েল ও হায়দার ধর্ষণের ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনার পর ওই বছরের ১ আগস্ট মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে জুয়েল সিকদারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে স্থানীয় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করার পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জুয়েল জবানবন্দিতে জানায়, হায়দার আলী শেখ তাঁকে ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে ও মুঠোফোনে ধর্ষণের ছবি তোলে।
২০১০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দুরকানি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু জাফর মামলাটি তদন্ত করে এ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দেন।
সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুর রাজ্জাক খান। আসামি পক্ষে ছিলেন সিরাজুল হক।

Leave a Reply

%d bloggers like this: