পার্বত্য চট্টগ্রামের রসালো ফলে অবাধে বিষ প্রয়োগ!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : পার্বত্য চট্টগ্রামের মানিকছড়ির পরতে পরতে রসালো ফল আনারস, তরমুজ ও কাঁঠালের হাজারো বাগান গড়ে ওঠেছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া Rasaluকৃষকদের অনুকুলে থাকার কারণে জমিতে আশানুরূপ ফল-ফলাদি ও শাকসবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। আর দেশ-বিদেশে পাহাড়ের ফল-মূলের কদর থাকে অনেক বেশি। ফলে বাগানে ফল আসার আগেই সমতলের পাইকারদের আনা-গোনা বেড়ে যায়। রসালো ফলের চাহিদা দেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক ফল পাঁকাতে বাজারে অবাধে বিক্রি করছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড! আর অজ্ঞ কৃষকরা বুঝে-না বুঝে চড়া দামে তা কিনে ব্যবহার করছে রসালো ফলে! রাতারাতি ফল বড় হওয়া এবং দ্রুত সে ফল বাজারজাত করে কৃষক লাভবান হলেও প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ক্রেতারা। সরজমিনে ঘুরে এবং কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪১,৬০০ একর আয়তন বিশিষ্ট উপজেলার অধিকাংশ ভূমি উঁচু। ফলে Jessore-Ice-crime-BM-upload-খানকার কৃষকরা উঁচু-নীচু জমিতে সারা বছর ফল-ফলাদি ও তরুতরকারী চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিশেষ করে গরীব কৃষকরা নিজের জমির পাশা-পাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তাতে ফলের বাগান সৃজন করে থাকে। এতে কৃষকরা প্রাকৃতিক দূর্যোগ (খরা ও অনাবৃষ্টি) না হলে প্রচুর লাভবান হয়। শাক সবজির পাশা-পাশি এখানের নদী ও খালের পাড়ে তরমুজ, পাহাড়ের ঢালু কিংবা সমতলে কাঁঠাল, আনারস চাষে বিপ্লব ঘটানো হয়। আর এ চাষকে পুঁজি করে বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ক্যালশিয়াম কার্বাইডের রমরমা বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক স্পটে কীটনাশকের আড়াঁলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। গাছের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, দ্রুত ফল ফলানো এবং পাঁকাতে এসব ক্যালশিয়াম কার্বাইডে খুব কার্যকর বলে দাবী করেন অজ্ঞ কৃষকরা। এ ক্যালশিয়াম কার্বাইডের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে বিন্দু মাত্র ধারণা নেই তাঁদের। ফলে এসব ক্যালশিয়াম কার্বাইডের চাহিদা বাড়ছে প্রতিক্ষণে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে ৪১টি এবং সার বিক্রির জন্য লাইসেন্স রয়েছে ২৭টি। ফলে হাতের কাছেই কৃষক পাচ্ছে সর্বনাশা বিষ! বর্তমানে বাগানে কাঁঠাল ও আনারস পরিপক্ক হওয়ার আগেই তাতে পুশ করা হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড! এতে রাতেই ফল পেঁকে একাকার। জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার মানিকছড়ির তিনটহরী। আগামী এক মাস পর এ বাজারে প্রতিদিন ২০/২৫ ট্রাক কাঁঠাল বেচাকেনা হবে অনায়াসে। ফলে স্থানীয় পাইকাররা তা কিনে গুদামে নিয়ে শিক মেরে তাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মিশাচ্ছে অবাধে! এসব অপকর্ম সামাল দিতে পুলিশকে ম্যানেজ করতে লাখ টাকা ব্যয় করেন ব্যবসায়ীরা! পাহাড়ের কৃষকের প্রাণ হরেক রকমের ফল-ফলাদি ও শাকসবজি আর এসব ফল সমতলে কিংবা দেশ-বিদেশে ব্যাপক কদর। কিন্তু রসালো অপরিপক্ক ফলে অবাধে জীবননাশক ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম তা স্বীকার করে বলেন, অপরিপক্ক ফলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারের কারণে ফলের প্রকৃত স্বাদ যেমন থাকছে না তেমনি সমতলের ক্রেতারা পাহাড়ের রসালো ফল কিনে প্রতারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। তবুও অর্থলোভী কৃষকরা অসময়ে ফল পাঁকিয়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ক্রেতারা। কৃষক এবং কীটনাশক বিক্রেতারা সচেতন হলেই এ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*