‘পানি চুরি বন্ধ ও গণশুনানীর দাবি ক্যাবের’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫০তম বোর্ড সভায় আগামি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক খাতে পানির মূল্য গ্রাহক প্রতি ইউনিট ৯.৪৫ থেকে ৯.৯২ পয়সায় ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ। ওয়াসার পানির মূল্য বৃদ্দির আগে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে, সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি, অপচয় বন্ধ না করে, ভৌতিক বিল ও অতিরিক্ত বিলের নামে গ্রাহক হয়রানির কারনে সাধারন ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় ও অসন্তুষের কারন হতে পারে। অন্যদিকে দাম বাড়ানোর আগে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পূর্বে গ্রাহকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবার জন্য গণশুনানীর আয়োজন করা হলেও ওয়াসা গ্রাহকদের কোন প্রকার মতামত না নিয়ে একতরফা ভাবে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া অন্যায্য ও ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী এবং অগ্রহনযোগ্য। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজতর হওয়া উচিত। বোর্ড সভা ও মন্ত্রণালয়ের আদেশে দাম না বাড়িয়ে গ্রাহক ও এখাতে সকল স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে এবং যাবতীয় বিষয়গুলি বিবেচনায় এনে দাম নির্ধারন করা উচিত। একই সাথে গ্রাহকদের বিলগুলি মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু তদারকির আওতায় এনে মিটার ও বিলের সাথে সমন্বয় করার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা দরকার। ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাব এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন ওয়াসার সরবরহকৃত পানির ৮৮% গ্রাহক হচ্ছেন আবাসিক গ্রাহক। আর ওয়াসা দিনে চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ পানি সরবরাহ করতে পারে। যার কারনে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানির জন্য এখনও হাহাকার। আর চট্টগ্রাম ওয়াসা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন নতুন প্রকল্পের কথা বলে নগরবাসীকে বারবার বিভ্রান্ত করছে এবং দাম বাড়ানোর কথা বলে প্রকারান্তরে ওয়াসার অভ্যন্তরে পানি চুরি, অপচয় ও মিটার রিডারদের কারসাজিকে উসকে দিচ্ছে। নগরীর অধিকাংশ এলাকায় যেখানে পানির জন্য হাহাকার, সেখানে চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর পানির সমস্যা সমাধান না করে নতুন করে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েছিলো পানির অপচয় রোধ, সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, লিকেজ, পানির চুরি বন্ধ, বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটি দূর না করে, সিস্টেম লস বন্ধ না করে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে অজুহাতে ভোক্তাদের উপর পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। ওয়াসার অধিকাংশ গ্রাহকই সাধারন মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের আয়ের মানুষ। আর এ শ্রেনীর মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও সেবা সার্ভিসের মূল্য বৃদ্ধির যন্ত্রনায় কাতর, সেখানে নতুন করে পানির দাম বাড়ায় সাধারন মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিবে। বিষয়টি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। অন্যদিকে গ্যাস কোম্পানী গুলির মিটার রিডাররা যেরকম কোটি কোটি কোটি টাকার মালিক সেরকম ওয়াসার মিটার রিডাররাও কোটি কোটি টাকার মালিক। তারা কিছু গ্রাহকদের সাথে চুক্তিতে বিল করছে, যার দায় ভার সিস্টেম লসের নামে সকলকে বহন করতে হচ্ছে। তাই গ্রাহক পর্যায়ে বিলগুলি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিয়ে নিয়মিত ভাবে মিটার ও বিলের মধ্যে সমন্বয় ও তফাৎ পরীক্ষা এবং মাঠ পর্যায়ে বিলিং পদ্ধতি তদারকির আওতায় আনা দরকার।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্যাব পানির অপচয় রোধ, সেবা সার্ভিসের অব্যবস্থাপনা রোধে গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্ঠি, গ্রাহক সেবার মান ও অনিয়ম রোধে ত্রিপাক্ষিক গণশুণাণীর আয়োজন করা, গ্রাহক হয়রানি রোধে তাৎক্ষনিক প্রতিকারের জন্য ডিজিটাল হেলপ লাইন চালু ও হেলপ ডেস্ক আধুনিকায়ন, দাম বাড়ানোসহ সেবার মান উন্নয়নে নীতিমালায় ভোক্তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিতকরার দাবী করে জানালেও মন্ত্রণালয় ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। যা বর্তমান আধুনিক বিশ্বে সুশাসন ও ন্যায্য ব্যবসার পরিপন্থি এবং একটি আদর্শ সেবা সংস্থার মডেলের পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি পুনঃগঠন হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের সাথে কোন প্রকার সৌজন্যমুলক ভাবেও মতবিনিময় করার প্রয়োজন অনুভব করেনি। যা সত্যিই দুঃখজনক ও অনাকাংখিত। আর ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদে ভোক্তাদের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব না হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদ ভোক্তাদের যন্ত্রনা, মর্ম ব্যাথা-বেদনা ও আর্তনাদের ভাষা বুঝতে অক্ষম। তাই অনতিবিলম্বে ওয়াসাসহ সকল সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থায় জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: