পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ৩ হাজার এমআরপি পড়ে আছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ জানুয়ারী ২০১৭ রবিবার: পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রস্তুতকৃত প্রায় ৩ হাজার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) পড়ে আছে। ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেও এ প্রস্তুতকৃত পাসপোর্ট নিয়ে যাচ্ছে না আবেদনকারীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেকে হয়তো দেশে নেই। অনেকে যখন প্রয়োজন পড়বে তখন হয়তো নিয়ে যাবেন। ২০১৬ সালে পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ১ লাখ ৬৫৮টি আবেদন জমা পড়ে। এরমধ্যে পাসপোর্ট ইস্যূ হয় ৯৫ হাজার ৩৫৯টি পাসপোর্ট। যেখানে ৩৪২টি অফিসিয়াল পাসপোর্ট রয়েছে।
নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, কোতোয়ালী, চকবাজার, বাকলিয়া, কর্ণফুলী থানা এবং দক্ষিণ জেলার বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দারা পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সেবা নিতে পারছেন।
জানা যায়, নগরীর পাঁচলাইশ জাতিসংঘ পার্কের পাশে নিজস্ব জায়গায় ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম চলছে। অফিসের কার্যক্রম তদারকিতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ১৫টি সিসি ক্যামেরা।
পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক শাহ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদনকারীরা ফরম জমা দেন। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন পাওয়ার প্রেক্ষিতে ইস্যুকৃত পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ডেলিভারি দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে এ লাখ ৬৫৮টি আবেদনের মধ্যে ৯৫ হাজার ৩৫৯টি পাসপোর্ট ইস্যু হয়। সরকারি কোষাগারে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হয়েছে। এরমধ্যে অরিডিনারি (সাধারণ) আবেদনে ২৯ লাখ এবং এক্সপ্রেস (জরুরি) আবেদন ১০ লাখ টাকা।
প্রস্তুতকৃত প্রায় ৩ হাজার পাসপোর্ট এখনও ডেলিভারি না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক বলেন, নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আবেদন করে এখন প্রস্তুতকৃত প্রায় তিন হাজার এমআরপি পাসপোর্ট ডেলিভারি নিচ্ছেন না। আবেদন করে তারা হয়তো দেশের বাইরে অবস্থান করছে। নতুবা তাদের যখন প্রয়োজন, তখন নিয়ে যাবেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে বারটায় পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্টে গিয়ে দেখা যায় আবেদন জমা ও ডেলিভারি নিতে শতাধিক সেবাপ্রার্থী লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কর্মকতা-কর্মচারীরাও তাদের আবেদন জমা ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন এ অফিস থেকে গড়ে ৪ শতাধিক আবেদন জমা পড়ে থাকে।
তবে সাইফুর রহমান নামে এক আবেদনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সোনালী ব্যাংকের পাঁচলাইশ শাখায় ৩ হাজার ৪৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসে আবেদন ফরম জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু এক মাস পার হলেও এখনো পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসে জানতে এসেছিলাম। তারা বলেছে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নাকি আসে নি। অথচ ১০ দিন আগে রাউজান থানা থেকে পুলিশ রিপোর্ট ডিএসবিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে ২ নম্বর গেইট ডিএসবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখলাম আমার পাসপোর্ট আবেদনের ফাইলটি পড়ে রয়েছে। পরে তাদের ম্যানেজ করে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টটি নিয়ে আসলাম। এবার হয়তো পাসপোর্ট পাবো।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক বলেন, পাসপোর্ট অফিসে সপ্তাহে ২ হাজারোধিক আবেদন জমা পড়ে। আবেদনের পাওয়ার পরেই আমরা পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠিয়ে দিয়ে থাকি। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাওয়ার প্রেক্ষিতে আবেদনকারীদের পাসপোর্ট প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*