পরোপকারে রয়েছে আত্মিক তৃপ্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশের মঙ্গল: আল-মরচুচ হজ্ব কাফেলার ইফতার মাহফিলে বক্তারা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: একে অপরের প্রতি সহানুভূতি, সেবা-সহযোগিতার মতো এই মহৎ গুণটি যদি আমরা ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করি, তাহলে সমাজের উঁচু-নিচু ভেদাভেদ তথা শান্তি-শৃঙ্খলায় আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। পরোপকারে রয়েছে আত্মিক তৃপ্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশের মঙ্গল। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একটি কথা বিশেষভাবে হাদীসে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, মানুষ তাঁর প্রতিবেশীকে কষ্ট না দিয়ে, জ্বালাতন না করে এবং উপোস না রেখে বিপদে-আপদে, দুঃখে-কষ্টে, সুখে-দুঃখে একে অপরের প্রতি সমবেদনা-সহানুভূতিতে এগিয়ে আসা মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। অতএব আমরা যেন পরিবার, সমাজ, দেশের শত কোটি মানুষের সঙ্গে আচার-আচরণে, সাহায্য-সহযোগিতা ও সহানুভূতিতে এবং পরোপকারী মন-মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসি।
দেশের সুনামধন্য হজ্ব কাফেলা আল মারচুচ হজ্ব কাফেলা পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল গত ১৮ জুন রবিবার চকবাজারের হোটেল জামানে অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাফফর আহমদেরসভাপতিত্বে এবং মাওলানা আবদুল গফুরের কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সূচিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাব ও আটাবের সভাপতি আলহাজ্ব শাহ আলম, প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন হজ্ব কাফেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোরশেদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা সরওয়ার আলম, চকবাজার বড়মিয়া মসজিদের খতীব মাওলানা আকতার হোসাইন, অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রফেসর মুহাম্মদ হোসাইন। বক্তারা আরো বলেন, মানবিক সহজাত গুণাবলীর মধ্যে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা বা পরোপকার অন্যতম গুণ। এই মহত ও সুন্দর গুণটি যার মধ্যে বিদ্যমান, তিনি সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে উত্তম কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। তাই ইসলামে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতাকে সর্বোত্তম কাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং মানবতার মঙ্গল সাধনে এই গুণটির গুরুত্ব অত্যধিক বলে উল্লেখ করা  হয়েছে। আল্লাহর মেহমান হিসাবে হাজী সাহেবানরা আল্লাহর সান্নিধ্যে এবং আল্লাহর হাবীব মুহাম্মদ (সা.)-এর সরাসরি সান্নিধ্য লাভের সুযোগ লাভ করে। হজ্ব এবং উমরাকারীগণ হচ্ছেন আল্লাহর মেহমান। আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলা আল্লাহর মেহমানদেরকে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময়, যে সেবা দিয়ে আসছে তা প্রশংসার দাবিদার। কাফেলার চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গতানুগতিক ধারায় হজ্ব কাফেলা নই। আমরা অবাস্তব ও মিথ্যা প্রতিশ্র“তি দিয়ে যেনতেন উপায়ে পবিত্র কাজকে কলুষিত করতে চাই না। শেষে দোয়া কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: