পরীক্ষার্থী গণপরিবহন ও কোচিং

মাহমুদুল হক আনসারী, ২৯ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, শুক্রবার: ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরিক্ষার্থীদের পরিক্ষা দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে। পরিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা, কোচিং ও গণপরিবহন নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। সাম্প্রতি কলেজ ভার্সিটিগামী ছাত্রদের উপর গণপরিবহনের লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের সংবাদে অভিভাবক মহলসহ গোটা দেশবাসী উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। ক্ষণে ক্ষণে দেখা যায় গণপরিবহন স্টুডেন্টের উপর বেশি ক্ষেপে যায়। যেখানে তাদের সাথে সুন্দর আচরণের কথা ছিল সেখানে ছাত্রছাত্রীদের সাথে গণপরিবহন অত্যন্ত নির্মম লোমহর্ষক আচরণ করে যাচ্ছে। এসব কার্যকলাপে প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবান জীবন প্রদীপ নিভে দিচ্ছে। সাথে সাথে সম্ভাবনাময় একটি পরিবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। গণপরিবহনের এসব আচরণ পর্যায়ক্রমে ক্ষিপ্ত হচ্ছে বলে মনে হয়। বেপরোয়া লাইসেন্সবিহীন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও ড্রাইভার, হেল্পারের হাতে গোটা যাত্রী সাধারণ জিম্মি। সরকারের একটি অংশ পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সাথে সুসম্পর্ক থাকার অথবা প্রশ্রয় দেয়ার মতো অভিযোগও জনমনে শোনা যায়। পরিবহন সেক্টরে অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা থাকলেও তার কোনো সুরাহা জনগণ দেখছে না। এত লেখালেখী বলাবলী আন্দোলন আর প্রতিবাদের পরও গণপরিবহনের উশৃংখল লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন তাদের হাতে অসংখ্য মূল্যবান জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। পঙ্গু হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এসব মানুষের কারণে পরিবার সমাজে অমানবিক দুর্যোগ নেমে আসছে। এ সেক্টরকে কঠোর থেকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মের মধ্যে না আনতে পারলে দেশের সমস্ত সাফল্য ধূলিস্মাত হয়ে পড়বে। আগামী দিনের প্রজন্ম দেশ ও জাতির কারিগর প্রজন্মকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠার সমস্ত নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ও দেশবাসী ব্যার্থ হলে দেশের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটায় এখন গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ভাবতে হবে। সারা দেশের বিআরটিএ কী দেখছে পরিবহন সেক্টরের এসব অনিয়মের বিরোদ্ধে সেটাও চিন্তা করে দেখতে হবে। লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন কীভাবে রাস্তায় পরিবহন নামে কীভাবে সেটা সম্ভব হয় সেটা বোধগম্য নয়। বিআরটিএ ট্রাফিক পুলিশ ব্যাতিরেকে কোনো পরিবহন রাস্তায় চলতে পারে না। গণপরিবহনের সমস্ত ডকুমেন্টস পরিচ্ছন্ন রেখেই রাস্তায় নামতে হবে। কিন্তু সে জায়গায় হাতেগোনা কয়েকটি গণপরিবহন ছাড়া বাকি পরিবহনের ডকুমেন্টস ঠিক পাওয়া যায় না। এসব পরিবহন শোনা যায় টুকেন্স স্লিপে রাস্তায় চলে। তাদেরকে কারা স্লিপ দিয়ে বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করছে এসব দুর্নীতিরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। দুর্নীতির সমস্ত রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করে এ সেক্টরের শৃংখলা ফিরে আনতে হবে। অভিভাবক মহল সর্র্বদা তাদের কলেজ ভার্সিটির সন্তানদের নিয়ে চিন্তায় থাকেন। গণপরিবহন রাস্তা দিন দিন যেনো অনিরাপদ হয়ে উঠছে। একটি সূত্র বলছে, প্রতিমাসে ৬ হাজারের অধিক নতুন নতুন পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। এ যদি সত্যি হয় বছরে ৭২ হাজার করে নতুন পরিবহন রাস্তায় নেমে পড়ছে। এ সংখ্যার মধ্যে বাইক বা দু চাকার পরিবহন বেশি। তাহলে এভাবে বছরে বছরে ৭২ হাজার গণপরিবহনের সাথে পাল্লা দিয়ে রিকশা, ভ্যানসহ আরো নানা জাতের পরিবহন নানাভাবে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় রাস্তায় চলে আসে। সে পরিমাণ রাস্তা আদৌ কি বাড়ছে অথবা বাড়ার মতো সম্ভাবনা আছে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এভাবে জন আধিক্যের সাথে পরিবহনের বেপরোয়া লাগামহীন ও এ সেক্টরের শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে সমাজের মানবীয় শৃংখলার কী হবে সেটাও এখনি ভাবতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে গণপরিবহন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা কেন্দ্রে আসা যাওয়া সঠিক সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সময় ও পরিবহনের সাথে সম্পৃক্ত। গণপরিবহন সেক্ষেত্রে সঠিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলে একজন শিক্ষার্থী পথেই তার অঘটন ঘটে যাবে। এসব বিষয়ে চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবগুলো গণপরিবহনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা চায়। ইচ্ছেমতো যাতায়াত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শহর এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে অধিক হারে রিকশার লাইসেন্স প্রদান নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কী পরিমাণ রিকশার লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে সেটা বিবেচনা করে রিকশার লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও যেকোনো পরিবহনের কঠোর আইনের মাধ্যমে তাদেও বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সারা দেশে পরিবহন সেক্টরের পরিবহন ও শ্রমিকদের আচার আচরণে চিন্তিত যাত্রী সাধারণ। এ অবস্থার উত্তরণ অনিবার্য। পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ ও যথাসময়ে পরিবহন ভোগান্তিহীনভাবে পাওয়া যায় সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মালিক শ্রমিক সংগঠন ও প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। কোনো অবস্থায় পরীক্ষার্থীদের জীবন ও সময় যেনো নষ্ট না হয় কঠোরভাবে তা সংশ্লিষ্টদেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিরাপদ নিশ্চিন্তে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেনো সমাপ্ত হয় সেটা দেখা সকলের দায়িত্ব। পরীক্ষার আগ থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং বন্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর দেখতে চায়। আইন যারা মানবে না তাদের বিরোদ্ধে মন্ত্রণালয়কে কঠোর হতে হবে। যেকোনো মূল্যে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হবে। এতো লেখাপড়ার কঠোর অধ্যাবসায়ের মধ্যে প্রশ্নফাঁসের ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসছে। পরীক্ষার অর্থ মেধা যোগ্যতা যাচাই বাছাই। সেখানে যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাহলে আর মেধার যাচাই আর বিকাশ থাকে না। ভয়াবহ এ কলঙ্ক মেধা বিধ্বংসী ষড়যন্ত্র থেকে যেকোনো মূল্যে জাতিকে রক্ষা করতে হবে। সেজন্য প্রশাসনকে সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে পরীক্ষার সমস্ত শৃংখলা রক্ষা করতে হবে। কোনো অবস্থায় আগামী দিনের প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। সমস্ত দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্র থেকে পরীক্ষার্থী ও পরিক্ষাকে পরিচ্ছন্নভাবে দেখতে চায় অভিভাবক মহল। লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*