পরিবার, মুক্তি ও একজন ডোনাল্ড ট্রাম্প : রেবেকা হাগেলিন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

পরিবারগুলোর জন্য সরকার সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করতে পারে তা হচ্ছে, তাদের অগ্রযাত্রার পথে বাধা হয়ে না থাকা।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নিয়ে যদি দেশ সেভাবেই পরিচালনা করেন, যার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন আমেরিকা ও তার পরিবারগুলো এমন একসময়ে বাস করার সুযোগ পাবে যাকে আব্রাহাম লিংকন বলেছেন ‘অ্যা নিউ বার্থ অব ফ্রিডম’স্বাধীনতার এক নবজন্ম।

কেন্দ্রীয় সরকার স্কুল ব্যবস্থাপনায় কঠোর বিধিনিষেধের যে কাঁটাতারের প্রাচীর তুলেছে, তা ভেঙে ফেলার অর্থই হচ্ছে মা-বাবারা আর বাড়ির কাছের সরকারের বেঁধে দেওয়া গভর্নমেন্ট স্কুলে (এসব স্কুলের বেশির ভাগেরই মান রটেন অর্থাৎ পচা) সন্তানদের পড়াতে বাধ্য হবেন না। আমেরিকার রাজ্যগুলো, সম্প্রদায়গুলো এখন বাধ্য হবে অন্য রাজ্য বা সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদেরও অভিজাত সেসব স্কুলে ভর্তির অনুমতি দিতে, যেগুলোয় এত দিন শুধু অভিজাত শ্রেণির সন্তানরাই পড়ার সৌভাগ্য ভোগ করে এসেছে। মাথাভারী শিক্ষা বিভাগের আকার কমিয়ে আনা মানেই হচ্ছে শিক্ষকরা এবার একটু দম নিতে পারবেন; স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার জোরে অভিভাবকরা তাঁদের এলাকার স্কুলে যে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন, কমে আসবে তাও।
ওবামাকেয়ার মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দমনমূলক ও ঘৃণ্য এক কর্মসূচি। ওবামাকেয়ার বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, পরিবারগুলোকে আংকল স্যামের (ইউএস তথা যুক্তরাষ্ট্র!) রশিতে বাঁধা থাকতে হবে না। তারা তাদের সন্তানদের ইচ্ছেমতো স্থান বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার মানে হচ্ছে, পরিবারগুলো আবারও প্রকাশ্যে ধর্মের চর্চা করতে পারবে; সক্ষম হবে নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার; এসব কাজের জন্য তাদের আগের মতো নিপীড়নের শিকার হওয়ার ভয় তাড়া করবে না; এমন একটি সরকারের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে না, যারা রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের বেদিতে পূজা দেয়।

হ্যাঁ, বিগত অনেক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের অনেককেই আহত করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ, পিসি পুলিশ (রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ পুলিশ) কিংবা গণমাধ্যমের কাছে তিনি যে নতিস্বীকার করেননি, তার ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের ওপর আশীর্বাদ নেমে এসেছে। ট্রাম্প সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বাধীনতার একেবারেই নুতন এক যুগের সূচনা ঘটনার সুযোগ পেয়েছেন।

হে আমার ঈশ্বর, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমনভাবে তুমি পরিচালিত করো যেন তিনি সরকারের ক্ষমতা হ্রাস করতে নিজের প্রেসিডেন্সি পাওয়ার ব্যবহার করেন; আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন, ট্রাম্প যেন নিজের সে ক্ষমতাটি খর্ব করেন। হে ঈশ্বর, আমাদের নবলব্ধ এই স্বাীধনতার সুযোগ নিয়ে তোমার পরিবারও যেন বেড়ে ওঠে এবং আনন্দ খুঁজে পায়। এর ওপরই নির্ভর করছে আমাদের জাতিরাষ্ট্রের টিকে থাকার বিষয়টি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: