পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নারী রোগীর ভিডিও ধারণের ঘটনায় আটক কর্মী রিমান্ডে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর, রবিবার: বেসরকারি চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ধানমন্ডি শাখায় নারী রোগীর ভিডিও ধারণের ঘটনায় আটক কর্মীকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তাকে ধানমন্ডি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।1
শনিবার আটকের পরই হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিকসের পিএবিএক্স অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, হাসিবুর রহমান এর আগেও একই ধরনের কাণ্ড ঘটাতে পারেন। এ বিষয়ে জানতেই ধানমন্ডি থানায় রেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
হাসিবুরের বিরুদ্ধে মামলার পরই তাকে আদালতে তুলে পুলিশ। বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন। তবে হাসিবুর অতীতেও এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন কি না সে বিষয়ে মুখ খুলছেন না বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, ‘হাসিবুর এখন থানায় আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনি তেমন কোন তথ্য দেননি।’
গতকাল শনিবার পপুলার হাসপাতালে প্রসাব পরীক্ষা করতে আসা এক নারী রোগীর ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারন করছিল হাসিবুর। পরে ওই নারী বিষয়টি জেনে সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডি থানা পুলিশকে পরে হাসিবুরকে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও চরম দুব্যবহার করে পপুলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, শনিবার তিনি চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক তাকে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিলে তিনি প্যাথলজি বিভাগ থেকে টিউব নিয়ে হাসপাতালের টয়লেটে যান। এ সময় তিনি খেয়াল করেন, কেউ একজন বোর্ড দিয়ে তৈরি টয়লেটের দেয়ালের নিচ থেকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারী মোবাইল ফোনটা ধরে ফেলেন। বেশ কিছু সময় টানাটানি করেও ফোনটি নিতে না পেরে টয়লেট থেকে বের হয়ে ভিডিও ধারণকারীকে ধরে ফেলেন তিনি। পরে ধানমন্ডি থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে পপুলারের ধানমন্ডি শাখায় গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময়ের এক প্রতিবেদক ও ভিডিওগ্রাফারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠে। এমনকি তাদের ক্যামেরার ব্যাটারি খুলে ফেলেন তারা। পরে ভুয়া সাংবাদিক অভিযোগ তুলে পুলিশের হাতে দেয়ার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু পরে পুলিশ এসে সব জানতে পারে এবং ব্যাটারি ফেরত দিতে বাধ্য করে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: