ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আশুলিয়া শ্রমিকরা ৪র্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ২০, ২০১৬, মঙ্গলবার: ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিকরা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। সোমবার রাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের পর আজ থেকে কাজে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। তবে সেই সমঝোতা না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন পোশাক শ্রমিকরা। প্রায় অর্ধশত কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে অবস্থান নিয়েছেন রাস্তায়। সকাল থেকেই টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ভাঙচুর চালিয়েছে যানবাহনে।
ভোর থেকেই আশুলিয়ার বেশির ভাগ কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ দেননি। পরে তারা টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে নেমে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশের টিয়ারসেলে তা পণ্ড হয়ে যায়। এসময় সড়কটিতে প্রায় ১৫ মিনিটি যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকরা ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তবে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা এখনও পর্যন্ত জটলা বেঁধে অবস্থান করছেন। সড়কে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানান আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির।
এদিকে শিল্পাঞ্চলের এনভয়, ইয়াগী, দি রোজ, হিয়ন দি লাইফ, প্রাইম, মেডলার, বান্দু, শামিম, স্টারলিংক, সেটফ্যাশন, সেতারা, পলমল, ফ্যাশন ক্র্যাফট, ফ্যাশন এইট কোম্পানি, ওশানী, ডেকো, নাভা নিট কম্পোজিট, শারমিন, সাতচুন কটন, টংলিয়ান, এনআরএল, সানস অ্যাপারেলস লিমিটেডসহ প্রায় অর্ধশত কারখানায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা।
সোমবার রাতে রাজধানীর মিন্টু রোডে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় আশুলিয়ায় আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরকারের একটি বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাভারের সংসদ সদস্য ডা. এনাম আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী তিন বছর আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বাড়িভাড়া বাড়ানো হবে না। এছাড়া শ্রমিকদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণেরও আশ্বাস দেয়া হয়। বৈঠক শেষে গার্মেন্টস ওয়ার্কার ফেডারেশনের সভাপতি লাভলি ইয়াসমিন শ্রমিক জানান, ‘সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ায় আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলাম। আগামীকাল থেকে সবাই কাজে যোগ দেবে।’ তবে সেই মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: