নেপালে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার: নেপালে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৭৮ ধরনের পণ্য রফতানি হচ্ছে দেশটিতে। গত চার বছরে রফতানির পরিমাণ চার গুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। তবে কিছু ভুল ধারণার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে আগ্রহী নন বলেও তিনি জানান।
গতকাল নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে নেপালে সফররত মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইল জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (মিয়াজাব) সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে স্থলপথে পণ্য রফতানিতে অনেক জটিলতা ও ঝামেলা রয়েছে। ভারতের ভেতর দিয়ে পণ্য যাতায়াতে ভারত ঝামেলা সৃষ্টি করে। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল। বাংলাবান্ধায় নেপালের ওয়্যার হাউস আছে। সেখান থেকে সরাসরি কাঠমান্ডুতে পণ্য চলে আসতে পারে। মাঝে ভারতে কোনো চেকআপ করা হয় না।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আরেকটি ধারণা রয়েছে বাংলাদেশিদের মধ্যে। সেটি হলো নেপালের মানুষের মাথাপিছু আয় কম। সুতরাং এখানে ব্যবসা ভালো হবে না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, নেপালিরা সৌখিন জীবন যাপন করেন। তারা ভালো পণ্য কেনেন। দেশটি শতভাগ আমদানি নির্ভর। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ পণ্য আসে ভারত থেকে। বাকিটা চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আসে। সুতরাং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য এখানে বিশাল সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।
ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ৭৮টি পণ্য নেপালে বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সময় প্রতি বছর শুধু নির্দিষ্ট পরিমাণ পাট বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসতো। কিন্তু এখন অনেক পণ্য আসছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য এখানে এসেছে। গত অর্থবছরে এটি চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। এখানে ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, ফার্নিচার, এগ্রো ফুড ভালো চলছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক, হোম টেক্সটাইল, নির্মাণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এখানে সিঙ্গেল কান্ট্রি এক্সপোর আয়োজন করছি। ব্যবসায়ীদের এখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা এখানে আসুন, আমরাই গ্রাহক ধরিয়ে দেব।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নেপালে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। প্রচুর অবকাঠামো নির্মাণ হতে যাচ্ছে। এই সুযোগ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নিতে পারবে। বাংলাদেশি পণ্য এখানে প্রতিযোগী সক্ষম। নেপালিদেরও ধারণা নেই বাংলাদেশি পণ্য সম্পর্কে। তবে এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে মিয়াজাবের উপদেষ্টা উদয় হাকিম, সভাপতি দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার এম শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ভোরের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরুল কাওছার ইমনসহ ২১ বাংলাদেশি সাংবাদিক অংশ নেন। সূত্র : মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*