নিষেধাজ্ঞা অমান্য ইলিশ ধরতে সাগরে যাচ্ছে অসাধু জেলেরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর, বুধবার: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরতে সাগরে যাচ্ছে অসাধু জেলেরা। কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাসহ শহর থেকে গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে এবং ভোররাতে কিছু জেলের সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একশ্রেণির ট্রলার মালিক ও মালিক সমিতির নেতা জেলেদের বিপুল পরিমাণ বরফবোঝাই ট্রলারসহ সাগরে পাঠাচ্ছেন।1
বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকাসহ বাঁকখালীর মোহনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারা থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা তদারককারী কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সাগরে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
মা ইলিশ রক্ষায় গত ১২ অক্টোবর থেকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই প্রজনন মৌসুমে জেলে ও সংশ্লিষ্ট লোকজনকে এই সময় ইলিশ ধরা ও কেনা-বেচা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অন্যান্য স্থানের মতো কক্সবাজার জেলা প্রশাসনও কঠোর নজরদারি করছে। কিন্তু প্রশাসন ইলিশ বিক্রির ক্ষেত্রে সচেতন থাকলেও গভীর রাতে বরফবোঝাই ট্রলারের সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার বিষয়ে তেমন একটা হস্তক্ষেপ নেই বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। ফলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। এই অসাধু জেলেদের কারণে সরকারের পরিকল্পনা অনেকটা ভেস্তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ফিশারী ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. রাসেল।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ও মো. শাহিনুল হক জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর পরামর্শে দুই শতাধিক জেলে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর মাছ ধরতে সাগরে গেছেন। জেলেদের অধিকাংশ মহেশখালী, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, বদরখালী ও খুরুশকুলের আশপাশ এলাকাসহ কস্তুরাঘাট থেকে যাচ্ছেন।
নিষেধাজ্ঞা জারির প্রথম দিকে বেশ কয়েক দিন শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বরফকলগুলো বন্ধ থাকলেও বর্তমানে নানা অজুহাতে গভীর রাতে বরফ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, ২০ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার ফিশারী ঘাট, ৬ নম্বর জেটি ঘাট, নুনিয়ারছড়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, উখিয়াসহ আরো একাধিক পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনীয় বরফসহ মালামাল নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেছে অনেক নৌকা।
এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবে জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া জেলেরা এ ক্ষেত্রে কৌশলেরও আশ্রয় নিয়েছে। যেসব জেলে বর্তমান সময়ে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তাদের ৩ কিংবা ৪ নভেম্বর কূলে ফেরার সম্ভাবনা। সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়সীমা মাথায় রেখে তারা ১২-১৩ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে সাগরে যাচ্ছে বলে জানান খুরুশকুল ইউনিয়নের মৎস্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন হাজারি বলেন, ‘প্রভাবশালী ও নেতাদের কিছু বোট নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা শুনেছি। পাশাপাশি শহরের চেয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে গভীর রাতে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সংবাদ আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি।’ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিত্তে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। জয়নাল আবেদীন আরো জানান, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, উখিয়া উপজেলাসহ জেলার আরো বিভিন্ন এলাকার কিছু কিছু বোট গত কয়েক দিনে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের বিধি-নিষেধ না মেনে যেসব মাছ ধরার নৌকা সাগরে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। সাধারণ জেলেরা আইন মানবে আর প্রভাবশালীরা মানবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না।’
কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান জানান, সরকারের বিধি-নিষেধের প্রতি সব ব্যবসায়ী ও জেলের সম্মান দেখানো দরকার। এক বছরের মধ্যে ২২টা দিন সাগরে না গেলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বরং জেলে ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার মধ্যে কেউ যাতে সাগরে মাছ ধরতে না যায়, সেই অনুরোধ জানান মুজিবুর রহমান। যদি সরকারি আদেশ না মেনে কেউ সাগরে মা ইলিশ ধরতে যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: