নির্মম রক্তাক্ত অভ্যুত্থান দেশে বিরাজমান দুঃশাসনেরই বহিঃপ্রকাশ: খালেদা জিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২ জুলাই: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দুষ্কৃতকারীদের নির্মম রক্তাক্ত অভ্যুত্থান দেশে বিরাজমান দুঃশাসনেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসীর হামলার বিষয়ে আজ শনিবার দুপুরে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।k
বিবৃতিতে এই নজিরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে শুরু হয়ে আজ সকাল পর্যন্ত দুষ্কৃতকারীদের কর্তৃক সংঘটিত প্রাণবিনাশী ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।’ চেয়ারপারসন বলেন, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি মিলেমিশে দেশে এমন এক রাজনৈতিক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যা পৈশাচিক স্বৈরতন্ত্রে অধঃপতিত হয়েছে, যার বিকৃত প্রতিক্রিয়া সারা দেশে ফুটে উঠতে শুরু করেছে। গত রাতের দুষ্কৃতকারীদের নির্মম রক্তাক্ত অভ্যুত্থান দেশে বিরাজমান দুঃশাসনেরই বহিঃপ্রকাশ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা জারি রেখে গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে দেশে অমানবিক সভ্যতা বিধ্বংসী শক্তির উত্থান ঘটেছে। দেশে বিদ্যমান বহুমাত্রিক স্বৈরতান্ত্রিকতার কারণেই আনাচকানাচে উগ্রবাদ বাসা বেঁধেছে। খালেদা জিয়া বলেন, আমি আবারও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এই নিষ্ঠুর বিবেকবর্জিত উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে দলমত-নির্বিশেষে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাই। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এখনই এই উগ্রবাদী শক্তিকে দমন করতে না পারলে এরা দীর্ঘতম যুদ্ধ চালিয়ে দেশের জনগণের শান্তি, সুস্থিতি, নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলবে।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্তাক্ত জিম্মি ঘটনা মোকাবিলার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিহত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বারবার উগ্রবাদীদের অমানবিক রক্তঝরা অশুভ পরিকল্পনা মোকাবিলা করার জন্য দলমত-নির্বিশেষে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করে। প্রকৃত জঙ্গি দমনে কোনো ধরনের ইতিবাচক তৎপরতা দেখানো দূরে থাক, বরং বিএনপিকে অভিযুক্ত করতে ব্লেমগেম খেলতে গিয়ে সরকার জঙ্গিদের স্বাস্থ্য বর্ধন করেছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগে জঙ্গি দমনের নামে সরকারি অভিযানের যে ভয়াবহ রূপ জনগণ দেখল, তাতে আমরা তখনই বলেছিলাম, সরকারের এই নৃশংস ক্র্যাকডাউন বিএনপির বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু সরকার এই নির্মম পুলিশি অভিযান চালানোর সময় দেশব্যাপী প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে চার হাজারেরও অধিক ছিল বিএনপির নেতা-কর্মী। বাকি অধিকাংশ মানুষই ছিল নিরীহ জনসাধারণ।
বিএনপির নেত্রী বলেন, রমজান মাসের শুরু থেকেই সরকারের অভিযানে গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা থেমে থাকেনি। সরকারপ্রধান ও সরকারের লোকজন জঙ্গিবাদের দমনের নামে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকে জায়েজ করে বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। এত কিছুর পরও জঙ্গিদের বিবেকবর্জিত অপতৎপরতা থামাতে পারেনি সরকার।
খালেদা জিয়া বলেন, গতকাল ঝিনাইদহে শ্যামানন্দ নামের একজন সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। আইএস এর দায় স্বীকার করেছে। সুতরাং, পুরোহিত শ্যামানন্দ দাসকে কুপিয়ে হত্যা এবং রাতে গুলশানের লোমহর্ষক জিম্মির ঘটনায় প্রমাণিত হলো, সরকারের সপ্তাহব্যাপী ক্র্যাকডাউনের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি দমন, জঙ্গিবাদ দমন নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সহিংস ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে এবং এদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্ষম হবে। এ ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পৃথক বিবৃতি দিয়ে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: