নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি’র আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার পৌনে ১টার দিকে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোট মাঠে আছে মাঠেই থাকবে।bnp logo নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।  দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। চলমান অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, ‘সারা দেশে সরকারের দমনপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। গতকালও তিনজন নেতা-কর্মী হত্যা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে সারা দেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আহত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত দমন পীড়ন বন্ধ করা না হবে, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে না দেওয়া হবে এবং সর্বোপরি নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি মেনে না নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম khaladaখালেদা জিয়াকে গুলশানের কার্যালয়ে সরকার তার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাকে কোথাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষাক্ত পিপার স্প্রে দিয়ে তাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। রিজভী অবিলম্বে গুলশানের কার্যালয় থেকে পুলিশি অবরোধ তুলে নিয়ে বিএনপি প্রধানের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। অবরোধ কর্মসূচিকে ‘গণতান্ত্রিক কর্মসূচি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারবিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। দমননীতির মাধ্যমে তারা আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। হরতাল অবরোধ এসব গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এসবে সরকার বাধা দিচ্ছে। তাবলিগ জামাতের জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের rizviচলমান লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার হচ্ছে না। তবে অবরোধ অব্যাহত রেখে ইজতেমা অনুষ্ঠানে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করছে বিরোধী জোট। আজ বৃহস্পতিবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ইজতেমা চলাকালীন অবরোধ কর্মসূচি শিথিল করা হবে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা বৈঠক করেছেন। তারা অবরোধ শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক। এখন জোটের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সিদ্ধান্ত হলে আজ যে কোনো সময় তার ঘোষণা দেওয়া হবে। বিএনপি জোট কর্মসূচি প্রত্যাহার না করার বিষয়ে অতীতের অভিজ্ঞতাকে সামনে আনছে। তারা মনে করছে, এখন যেভাবে নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে, কর্মসূচি থেকে সরে আসলে তাদের মনোবল ভেঙে যাবে। খুব দ্রুততম সময়ের Movmentমধ্যে ফের তাদের নামানো কষ্টসাধ্য হবে। একবার মাঠ ছাড়া হলে নেতাকর্মীদের ফের আন্দোলনে ফিরে আসা কঠিন হবে। এতে সারা দেশে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসতে পারে। বিএনপি নীতিনির্ধারকরা ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন পরবর্তী আন্দোলন থেকে সরে আসাসহ অতীতের কয়েকটি আন্দোলন কর্মসূচিকে এক্ষেত্রে সামনে আনছেন। ফলে ইজতেমায় শিথিল করে চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। তবে এরই মধ্যে আগামী ১০ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ কর্মসূচি প্রত্যাহার নাmovment-2 করলে সেটি প্রতিহতে পাল্টা কর্মসূচি দিতে পারে বিএনপি জোট। এরপর আরেক দফা ইজতেমা আছে ১৬-১৯ জানুয়ারি। সেটি শেষ হওয়ার পরে স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি আহ্বান করবে ২০ দল। সেই কর্মসূচি করতে না দিলে অবরোধের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলায় হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটির সফলতা দেখে একদফা ঢাকা অচল কর্মসূচিতে যাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাবলিগ জামাতের প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাকে দাওয়াত দিয়েছেন। সেখানে তারা তার শারীরিক পরিস্থিতির কথা শুনে সুস্থতা কামনায় দোয়া করার কথা বলেছেন। তবে তারা বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি। অবশ্য মঙ্গলবার চেয়ারপারসন কার্যালয় থেকে বেরিয়ে প্রতিনিধি দলের নেতা মাওলানা আবদুর রহিম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, অবরোধ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে কোনো কথা হয়নি। এক বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তাবলিগ জামাতের একটি দল ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে ইজতেমার দাওয়াত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ভাবছে দলের নীতিনির্ধারণী মহল। তিনি বলেন, ইজতেমার জন্য দু-একটা দিন কর্মসূচি শিথিল করার পক্ষে যেমন যুক্তি আছে, তেমনি পরিস্থিতির বিবেচনায় অব্যাহত রাখার পক্ষেও যুক্তি আছে। তবে চেয়ারপারসনের সঙ্গে নেতারা সাক্ষাৎ করতে না পারায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। 000দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গতকাল বুধবার গুলশানের একটি বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার আহ্বানে সারা দেশে চলমান অবরোধ কর্মসূচি পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘চলমান এ আন্দোলনের গন্তব্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শেখ হাসিনার বিদায় এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। যে কোনো মূল্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’ বুধবার বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান জানান। খালেদা জিয়া চলমান আন্দোলনে যারা সরকারি পেটোয়া বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে নির্যাতিত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এদিকে সালাহউদ্দিন আহমেদ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে মর্মে বিভিন্ন সরকারি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: