নির্বাচন ও ফলাফল বাতিল এবং পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদে নির্বাচন Amir & Monjuকমিশন কর্তৃক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষ থেকে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় কারাগারে ও যারা বাইরে ছিলো তাদের অনেকে আইন শৃংখলা বাহিনীর নির্যাতন-হয়রানীতে পলাতক অবস্থায় দিন যাপন করছিলো। এই অসম অবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছিলো, ততই আমাদের নেতাকর্মী, নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত আহবায়কসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লোকজন ও এজেন্টদের বাসায় বাসায় পুলিশ তল্লাশি ও হয়রানী করে এবং অনেককে গ্রেফতার করে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন না করার জন্য হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর সময় বায়েজিদ, পলিটেকনিক্যাল, জালালাবাদ, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। এমনকি মেয়র প্রার্থী (মনজুর আলম) স্বয়ং প্রচারনা চালানোর সময় পলিটেকনিক্যাল এলাকায় একাধিকবার সরকার দলীয় প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার শিকার হন। তাছাড়া ভোটের দু’দিন আগে থেকে হাজার হাজার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেল, কটেজ, ডরমেটরিসহ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করা হয়। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় রিটার্নিং অফিসার ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেও কার্যকর ও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। তারপরও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আমরা নির্বাচন থেকে সরে আসিনি। কিন্তু ২৮ এপ্রিল ভোট গ্রহণ শুরুর পর মুহূর্ত থেকে যা ঘটেছে তা নগরবাসী, দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মীরা অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদেরকে ঢুকতে না দেওয়া, বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একের পর এক কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়া, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে বাঁধা দান, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে বাইরে শত শত স্থানীয় ও বহিরাগত ক্যাডার মোতায়েন করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা, ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে উৎসব করে। এভাবে সকাল ১১টার আগেই সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্র নিজেদের দখলে নেয়। সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা সেদিন এমন কোন নির্বাচনী অপরাধ ও বিধি লংঘনের ঘটনা ছিলো না যা সংঘটিত করেনি । এ কারণে শুধু আমরা নই, আরো ৩ জন মেয়র প্রার্থী এসব অভিযোগ ও অপরাধের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। আইন শৃংখলা বাহিনী ও নির্বাচনে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের বার বার এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। প্রকাশ্য দিবালোকে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় এমন নজির বিহীন ভোট ডাকাতি দেখে চট্টগ্রাসবাসী হতভম্ব হয়েছে। দেশবাসীর মত আমরাও মনে করি ২৮ এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে মূলত কোন নির্বাচনই হয়নি, যা হয়েছে তা হচ্ছে নির্বাচনের নামে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি চরম উপহাস ও প্রহসন। এমতাবস্থায় জনগণের মৌলিক, মানবিক ও শাসনতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অবিলম্বে ২৮ এপ্রিলের তথাকথিত নির্বাচন ও ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*