নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে খাদ্য অধিদফতরে সমালোচনার ঝড়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বিদেশ থেকে আমদানি করা অত্যন্ত নিম্নমানের গম সরবরাহ নিচ্ছে খাদ্য অধিদফতর। বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই গম সরবরাহ নেয়া হয়েছে। gomএকে খাদ্য অধিদফতরের ইতিহাসের সবচে’ খারাপ গম বলে আখ্যায়িত করছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কেউ কেউ এই গমকে পশুখাদ্য বলেও আখ্যায়িত করছেন। জানা গেছে, ‘গ্লেনকো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই গম সরবরাহ দিচ্ছে। জনৈক জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে ৬টি লটে মোট ৩ লাখ টন গম সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ব্রাজিল থেকে এ গম আনা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। কিন্তু গমের মান এতো নিম্ন যে, অতীতে কখনো এতো নিম্নমানের গম সরবরাহ নেয়া হয়নি। গমগুলো অন্যান্য সাধারণ গমের চেয়ে অত্যন্ত ছোট। এর পুষ্টি মানও ভালো নয়। খাদ্য অধিদফতরের ল্যাবরেটরি টেস্টে এই গমের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এগুলোর পুষ্টি মান টেন্ডারের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী নেই। এসব কারণে অধিদফতরের কর্মকর্তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তারা এ গম গ্রহণ করতে সম্মত নন। তারপরও তাদের ওপর এই নিম্নমানের গম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ এবং আতংকিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, সরকারি খাদ্যশস্য মজুদের অংশ হিসেবে খাদ্য অধিদফতর ১২ লটে ৬ লাখ টন গম আমদানি করছে। এরমধ্যে ৬টি লটই একজন সরবরাহকারীকে দেয়া হয়েছে। এতে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করা হয়েছে। সূত্রমতে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে বেশি খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে খাদ্য অধিদফতর বা সরকারকে জিম্মি করে ফেলতে পারে। চক্রান্তমূলকভাবে কৃত্তিম খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই নীতিমালা করা হয়েছে, একজন সরবরাহকারীকে সর্বোচ্চ দু’টি লট অর্থাৎ ১ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া যাবে না। ইতিপূর্বে প্রায়ই এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু, এবারই প্রথম সকল রীতিনীতি লঙ্ঘন করে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬টি লটে ৩ লাখ টন গম সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এ নিয়ে শুরু থেকেই কথা উঠেছিলো। এখন ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিম্নমানের গম সরবরাহ নেয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে খাদ্য অধিদফতরে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই গম গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন। তারা লিখিতভাবেও আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু, তাতে কাজ হচ্ছে না। নিম্নমানের গম গ্রহণে তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র : শীর্ষনিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: