নারায়ণগঞ্জে জিয়াউর রহমানের ৮১ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ জানুয়ারী ২০১৭, শনিবার: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮১ তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলছিল নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু অনুপস্থিত জেলা বিএনপির অন্যতম দুই নেতা। অথচ কিছুক্ষণ পর তারা যোগ দেন প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে। এই দুই নেতা হলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস এবং বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে শুরু হওয়া কানাঘুষা থামছেই না। প্রশ্ন উঠেছে এই দুই নেতা দল বদল করতে যাচ্ছেন কি না।
দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনীতির ময়দানে দুর্বল অবস্থানে চলে যায় দলটি। এর এক বছর পর খালি হাতে ফিরতে হয় সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে। এরপর এক অর্থে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা দলটি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বিএনপি থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার খবর আসছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যে উদ্বিগ্ন তা নানা সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া কথোপকথনেও দেখা গেছে।
গত মাসেই নারায়ণগঞ্জে ভোটের লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বিএনপি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী যত ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান পেয়েছেন তার অর্ধেকের মাত্র কিছু বেশি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোটের এই ফলাফল দেখে হতাশা আরও পেয়ে বসেছে বিএনপিকে।
এই পরিস্থিতিতে নারায়ণঞ্জে বিএনপির দুই জনপ্রতিনিধির দলীয় অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে মেশামেশির ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান মুকুল নগরীর দুই নং রেলগেইট এলাকায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসে যান আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টিমুখ করাতে। সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় জনাব আনোয়ারকে মিষ্টিমুখের পাশাপাশি ফুল দিয়েও শুভেচ্ছা জানান তারা।
আনোয়ার হোসেন এবার সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। তবে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি।
বিএনপির দুই নেতার অভিনন্দনের পর আগামী ২৩ জানুয়ারি জেলা পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাদেরকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান আনোয়ার হোসেন।
একই দিন বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় থেকে মাত্র একশ গজ দূরে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর শোভাযাত্রা হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও সেখানে যাননি বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান মুকুল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে না গিয়ে যারা আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য। তাদের এই কর্মকাণ্ডে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ।’
দলের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানাতে। এখানে অন্য কোনো কিছু নেই।’

বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘আমি দলীয় অনুষ্ঠানে না গেলেও নিজের বাড়িতে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর কেক কেটেছি। আর আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়েছিলাম আনোয়ার ভাইকে শুভেচ্ছা জানাতে।
আজাদ বিশ্বাস ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নিবার্চিত হন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তিনি এই পদে তিন বছরধরে বহাল রয়েছেন। বিএনপির এই দুই নেতাকে সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর সময়ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল তার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: