নানাবিধ কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা: শফিকুল ইসলাম

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি), এডিসি ও সহকারী কমিশনারসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন নবনিযুক্ত কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।


তিনি বলেন, শুধু সার্জেন্ট ও টিআই’র ওপর নির্ভর থাকলে চলবে না। আমাদের ব্যস্ততম সময়, বিশেষ করে সকালে অফিস শুরুর ঘণ্টা তিনেক ও অফিস ছুটির ঘণ্টা তিনেক মাঠে থাকতে হবে। ডিসি থেকে শুরু করে ট্রাফিক বিভাগের নিম্নতম সদস্যকেও মাঠে থাকতে হবে। এও নির্দেশনা দিয়েছি যে, আমার নির্দেশনা যদি প্রতিপালিত না হয় তাহলে প্রোগ্রাম করে সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে ডিউটি বণ্ঠন করে দেব। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপির নতুন কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেই রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি, তাদের মতামত নিয়েছি। ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আমি অত্যন্ত কঠোর থাকব। যাদের ওপর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদেরকেও মনিটরিং করা হবে। আমাদের সিনিয়র অফিসাররা কাজ করবেন।
কমিশনার বলেন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে খুবই কঠিন। জানি না কতটুকু পারব। তবে জনগণের সামনে দৃশ্যমান একটা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা উপস্থাপন করতে চাই।
শুধু সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নয়, নানাবিধ কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন- আজকে রাজধানীর দুটি জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে। একটি গার্মেন্টস শ্রমিকরা রাস্তায় বসে গেছেন, আরেক স্থানে ছাত্ররা। ঢাকা শহরে কোথাও ৫ মিনিট বন্ধ থাকলে সেটির জের পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন কিছু ঘটে যেখানে ট্রাফিক পুলিশের কোনো হাত বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবুও এর দায় আমাদের ওপর পড়ে -বলেন মোহা. শফিকুল ইসলাম। নবনিযুক্ত কমিশনার বলেন, তবুও বলবো, পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আমাদের দায়িত্ব অস্বীকার করব না। দায়িত্ব পালনে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ট্রাফিকের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। কিন্তু ট্রাফিকের সব বিষয় আমার হাতে নেই। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তা নির্মাণ ছাড়াও নতুন নতুন গাড়ি বাড়ছে। একটি পরিকল্পিত শহরের জন্য যে পরিমাণ রাস্তা থাকা দরকার তার ধারের কাছেও আমরা নাই। আমরা এতটুকু বলতে পারি সহনীয় পর্যায়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে নিয়ে আসা।
কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সবাই যেন জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেন। সিনিয়র অফিসাররা যে যেখানে আছি সেখান থেকে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে কাজ করব। আসলে কেউই আইন মানতে চাই না। গুলিস্তান থেকে মিরপুর যেতে কমপক্ষে ৫০ বার মামলা খাওয়ার মতো অপরাধ করেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, মীর রেজাউল আলম, মফিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*