নববর্ষের প্রথম প্রহরের উৎসবকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে: ঢাকা মহানগর পুলিশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬, বৃহস্পতিবার: ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরের উৎসবকে ঘিরে রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ওই রাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানীবাসীকে বাসায় ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানীর কোনো সড়কের মোড়, ফ্লাইওভার বা রাস্তায় কোনো ধরনের জমায়েত বা উৎসবের আয়োজন করা যাবে না। কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না উন্মুক্ত স্থানেও। সন্ধ্যা আটটার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। তবে হাতিরঝিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, সেদিন রাত আটটার মধ্যে গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকায় বসবাসকারীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রবেশ করবেন। এর ব্যত্যয় হলে পরিচয়পত্র দেখিয়ে তারা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া সন্ধ্যা ছয়টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত কোনো ব্যক্তি ও যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হবে না। সন্ধ্যা ছয়টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ির স্টিকার ব্যতীয় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। এজন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। গাড়ি তল্লাশির জন্য বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হবে। যারা পায়ে হেঁটে চলাফেরা করবেন তারা কর্তব্যরত পুলিশের কাছে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করবেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাত আটটার পর হাতিরঝিল এলাকায় কোনো ধরনের গাড়ি পার্কিং বা সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে গুলশান, বনানী, বারিধারা থেকে গাড়ি হাতিরঝিলের দিকে আসতে পারবে। কিন্তু ওইসব এলাকায় গাড়ি যেতে পারবে না।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ঢাকা শহরের সকল ধরনের মদের দোকান,বার বন্ধ থাকবে। এছাড়া রাত আটটার পর থেকে যে কোনো ধরনের লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে। ফোটানো যাবে না আতশবাজি ও পটকা। তবে হোটেল, বাসা বা ক্লাবে কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলে ডিএমপির অনুমতি নিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি নেই। আমরা জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম চলমান রেখেছি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলমের উপস্থাপনায় নিজ নিজ এলাকার যানবাহন চলাচলের উপর নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন-রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মারুফ হাসান সরদার, ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার রিফাত, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার প্রবীর কুমার রায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. দিদার আহমেদ, মো. মিজানুর রহমান এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*