নপুংসক বাদশার সন্তানের গল্প

নিউজগার্ডেন বিনোদন ডেস্ক : পুরনো দিনের কথা। এক বাদশার ছিল তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সন্তান হতো না বলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ে করে বাদশা। কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রীরও কোনো সন্তানাদি হচ্ছে না দেখে আবারও বিয়ে করতে হলো বাদশাকে। কিন্তু খোদার এমনই হুকুম যে এই স্ত্রীরও কোনো সন্তান হলো না। 1বাদশা কত দূরদূরান্ত থেকে এই ওষুধ সেই দাওয়া এনে স্ত্রীদের দিলো কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। কোনো স্ত্রীরই সন্তান হলো না। বাদশার মনে তাই সবসময়ই কষ্ট ছিল। একদিন এক দরবেশ এলো প্রাসাদের দরোজায়। বাদশার দুই স্ত্রী ছিল বেশ চালাক চতুর। তারা দুজন দরবেশকে দেখে একে অপরকে বললো : চলো দরবেশের কাছে গিয়ে দোয়া চাই। এমনও তো হতে পারে এই দরবেশের ফুঁ পবিত্র। আর ওই পবিত্র ফুঁতে কাজ হতে পারে, আমরা সন্তান সম্ভবা হতে পারি! দুজনই শলাপরামর্শ করে দরবেশের কাছে গেল এবং তাদের মনের গহীনে লুকানো কষ্টের কথা দরবেশকে খুলে বললো। দরবেশ তাদের কথা শুনে তার জামার পকেট থেকে একটা আনার বের করলো। কী একটা দোয়া পড়ে দরবেশ ওই আনারের ওপর ফুঁ দিলো এবং আনারটি বাদশার স্ত্রীদের হাতে দিয়ে বললো : এই আনারটি খাবেন এবং আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখবেন। আল্লাহর কাছে অসাধ্য বলে কিছু নেই। তিনি যা চাইবেন তা অবশ্যই হবে। বাদশার ওই দুই স্ত্রী ভীষণ খুশি হয়ে গেল। দরবেশকে বিদায় দিয়েই তারা দ্রুত প্রাসাদে ফিরে গেল। দু’জন মিলে আনারটাকে ছুলে বিচিগুলো বের করলো এবং মনে প্রবল আশা নিয়ে আনারের দানাগুলো খেতে লাগলো। তৃতীয় যে স্ত্রী প্রাসাদেই থেকে গিয়েছিল সে আনার খাওয়ারত দুই স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো : কী খাচ্ছো তোমরা! দুই স্ত্রীই এমন ভাব করলো যে মনে হলো তারা যেন কিছুই জানে না। 2বললো : কই কিছু খাচ্ছি না তো! তৃতীয় স্ত্রী সরল মনে চলে গেল। কিন্তু দূর থেকে তাকিয়ে দেখলো মাটিতে আনারের বিচি পড়ে আছে। ফিরে এসে ওই বিচি তুলে নিয়ে সে খেয়ে ফেললো। কিছুদিন পর আল্লাহর ইচ্ছায় তিন স্ত্রীই সন্তান সম্ভবা হলো। নয় মাস নয়দিন যখন পূর্ণ হলো দুই স্ত্রী গর্ভ থেকে জন্ম হলো নাদুস নুদুস লাল সাদা দুই ছেলে। আর তৃতীয় স্ত্রী অর্থাৎ যে কুড়িয়ে পাওয়া আনারের বিচি খেয়েছিল সে জন্ম দিলো হালকা পাতলা হলুদ ও দুর্বল একটা ছেলে সন্তান। তিন সন্তানই আদরে সোহাগে বড়ো হতে লাগলো। দিনের পর কাটতে লাগলো দিন, রাতের পর রাত। এভাবে মাস আর বছর কাটতে কাটতে বার্ধক্যে পৌঁছে গেল বাদশাহ। বুড়ো হলে যা হয়। চোখে কম দেখতে শুরু করলো বাদশা। কম দেখতে দেখতে একসময় অন্ধই হয়ে গেল। যত ডাক্তার কবিরাজ ছিল রাজ্যে সবাইকে ডাকা হলো, কিছুতেই কাজ হলো না। বাদশা এক সময় জানতে পেলেন যে কোনো এক পাহাড়ে একজন বৃদ্ধ বাস করেন। হাত দেখায় ব্যাপক পারদর্শী সে। রোগীর হাত দেখে রোগের দাওয়া বলে দিতে পারে। বাদশা সেই বৃদ্ধকে নিয়ে আনতে খবর দিলো। বৃদ্ধ এসে বাদশার হাত দেখে বললো : ‘পরীদের বাদশার ঘোড়ার দুধই হলো বাদশার চিকিৎসা’। একথা শুনে বাদশা তার ছেলেদের ডেকে বললেন : ‘তোমরাই আমার আশার স্থল। যাও আমার চোখের দাওয়া নিয়ে আসো’! বাদশার তিন ছেলেই সামনে এসে হাজির হলো। 3বাদশা তাঁর দুই ছেলেকে-যারা বেশ চটপটে ছিল-তাদেরকে দ্রুতগামী ঘোড়াসহ পথের প্রয়োজনীয় রসদ বা পাথেয় দিয়ে পাঠালো। কিন্তু বাদশা তাঁর দুর্বল এবং হালকা পাতলা গড়নের ছেলেটিকে এই সফরে যেতে দিতে কিছুতেই রাজি হলো না। ছেলেটা যতই আগ্রহ দেখালো ভাইদের সাথে যেতে বাদশা কবুল করলেন না। বললেন, এই পথ ভীষণ দুর্গম, অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে, দুর্বল ছেলেটি এ কাজের উপযুক্ত নয়। কিন্তু দুর্বল ছেলে খুব কষ্ট পেল। মন খারাপ করে সে মায়ের কাছে গেল। মা ছেলের মনমরা ভাবের কারণ জানতে চাইলো এবং ছেলে যথাযথ জবাব দিলো। সেইসাথে মাকে বললো : তুমি বাবাকে গিয়ে বলো যে আমিও ভাইদের সঙ্গে যেতে চাই। হতে পারে আমার বাবার জন্য কিছু একটা করতেও পারি। মা ছেলের কথায় বাদশার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে অনুমতি নিলো এবং তৃতীয় ছেলেও তার দু’ভাইয়ের সফরসঙ্গী হলো। তিন ভাই রওনা হয়ে গিয়ে পৌঁছলো এক তেমুহনিতে। সেখানে একটা পাথরের গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে : ‘এই তেমুহনিতে আসার পর ডানে গেলে কোনো বিপদ নেই তবে রাস্তা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। আর বাঁয়ে মোড় নিলে দ্রুত যাওয়া যাবে কিন্তু পথটা বেশ বিপদসঙ্কুল’। দুই ভাই যারা আগে রওনা হয়েছিল তারা ডানে যেতে সম্মত হলো। কিন্তু ছোটো ভাইটা বললো ‘যা হবার হবে, বিপজ্জনক পথেই যাবো, তাতে দ্রুত যাওয়া যাবে’। 4একটা তলোয়ার মাটিতে গেড়ে রাখা হলো। যে আগে ফিরবে সে তলোয়ারটি তুলে নিয়ে বোঝাবে যে সে-ই সবার আগে পৌঁছেছে। তারপর খোদাহাফেজি করে যে যার পথে পাড়ি জমালো। বাদশার হালকা পাতলা ছেলেটা যেতে যেতে পথে সন্ধ্যা হয়ে গেলে দেখলো পাহাড়ের উপরে ধোঁয়া উড়ছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো ওখানেই রাতটা কাটিয়ে দেবে। উপরে গিয়ে দেখলো একটা গুহা থেকে ধোঁয়া উঠছে। গুহার ভেতর এক বুড়ি বসে আছে। সালাম করলো সে। বুড়ি জিজ্ঞেস করলো : এখানে কী করছো! কোথায় যাবে তুমি? ছেলে সব কথা বুড়িকে খুলে বললো। বুড়ি সব শুনে বললো : ‘আমি সেই পরীদের বাদশার ধাইমা। তাকে তো আমি বড়ো করেছি। সে এখন পাহাড়ের উপরে গেছে। ঘোড়াগুলোও নিয়ে গেছে সাথে’। বাদশার ছেলে বললো : তো, আমি এখন কী করবো…? বুড়ি বললো: “একটিমাত্র পথ আছে….”

Leave a Reply

%d bloggers like this: