নতুন খাল খনন করবে চসিক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, সোমবার: দেশের সর্বাধুনিক বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ও বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খননের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আজ সোমবার সকালে সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে চসিক প্রকৌশলীদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন সংশ্লিষ্ঠদের এ নির্দেশনা দেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে এই প্রকল্প দু”টির কাজ কাজ। নগরীর ১৬ একর জায়গার উপর প্রায় ২৯৭কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কুলগাঁও বালুছড়ায় এ সর্বাধুনিক বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হবে। এই টার্মিনাল নির্মাণের জায়গার মধ্যে সিডিএ মালিকানাধীন রয়েছে আট একর। বাকী আট একর জায়গা অধিগ্রহন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫লক্ষ ৫হাজার টাকা,জমির উন্নয়ন বাবদ ৩ কোটি ৩৭লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা,বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭কোটি ৫০লক্ষ টাকা,ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে রয়েছে ভুমি অধিগ্রহন, ভুমি উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ আনুসাংগিক কাজ। সর্বশেষ বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবণ নির্মান করা হবে। এই টার্মিনাল থেকে দুর পাল্লার এবং আন্তঃনগর উভয় ধরণের বাস ছেড়ে যাবে। টার্মিনালের মুখে থাকবে চারতলা বিশিষ্ট নানন্দিক ভবণ। চারতলা বিশিষ্ট এই নানন্দিক ভবনে যে সব সুযোগ সুবিধা থাকবে তম্মধ্যে প্রথম তলায় সিটি বাস টার্মিনাল, আন্তঃ নগর বাস টার্মিনাল ১টি যাত্রী নামার লেইন,২৫টি যাত্রী উঠার লেইন, ১৪টি অতিরিক্ত নামার/ অপেক্ষমান লেইন, ছাদযুক্ত বৃহদাকার খোলা হল রুম এবং তথ্য কেন্দ্র, ৩টি স্থানে ৫টি লিফট, ১ জোড়া চলন্ত সিডি, ৩টি প্রশস্থ সিডি, প্রতিটি ফ্লোরে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক বৃহদাকার ওয়াস রুম (টয়লেট),২২টি টিকেট কাউন্টার, ওয়াইফাই সুবিধাসহ যাত্রীদের বসার জায়গা, লাগেজ রুম, ট্যাক্সি বুকিং বুথ, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, খাবার দোকান ২য় তলায় রেস্তোরা, সুভ্যেনীর সভা ,এসি বাস যাত্রীদের বসার জায়গা ৩য় তলায় বাস কোম্পানীদের ব্যবসায়ীক অফিস, টার্মিনাল ফেসেলিটিজ এবং ৪র্থ তলায় বাস কোম্পানীদের ব্যবসায়ীক অফিস,প্যানোরোমা রেষ্টুরেন্ট,৩০টি কার এবং ট্যাক্সি পার্ক, ৬টি পেট্টলপাম্প, ৬৯টি বাস ডিপো, ১৭টি ওয়ার্কসপ এবং সার্ভিসিং সেন্টার, ৪টি সাভিসিং লাইন, ৮টি রক্ষনাবেক্ষন ওয়ার্কসপ লাইন,বাস কর্মচারীদের বডিং এবং কমনরুম, ওয়াসরুমসহ বাস কর্মচারীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা এবং সাব স্টেশন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টেশন। এ বাস-ট্রাক টার্মিনালটি নির্মিত হলে উত্তর চট্টগ্রামের যান-বাহনগুলোকে আর নগরে ঢুকতে হবে না। নগরীর যানজট সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমানে নগরীতে কোনো নিদিষ্ঠ বাস টার্মিনাল নেই । ফলে প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্ঠি হয়। এতে নগরে বসবাসকারী নাগরিকদের মূল্যবান কর্মঘন্টা নষ্ট হয়। তাই চট্টগ্রাম নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে কুলগাঁও এলাকায় এই বাস-ট্রাক টার্মিনালের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই লক্ষ সিটি মেয়র আজকের বৈঠকে টামিনাল এরিয়া র্মাকিং, ভুমি অধিগ্রহন ও অধিগ্রহনের নোর্টিশসহ যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এদিকে বহুপ্রতীক্ষিত বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশনা দেনমেয়র। এই নতুন খাল খননের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। গত ৭ই নভেম্বর-২০১৮ ইংরেজী তারিখে একনেক সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এরি প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এই বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা রইল না। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী নতুন খালটি নগরীর বহদ্দাহাট বাড়ইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলিরহাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রশস্ত ৬৫ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার ও নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি লক্ষ্যে খালের উভয় পাশে ২০ফুট করে ২টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে । নতুন খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরী বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি হওয়ার ফলে জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে। এছাড়া সভায় মেয়র নগর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প,ওয়াসা কর্তৃক রাস্তা কর্তন দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের উপর গুরুত্ব দেন। মেয়র বলেন যে কোনো প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিকল্পনা থাকা বাঞ্চনীয়। কাজের গুনগত মান অক্ষুন্ন আছে কিনা তা সার্বক্ষনিক তদারকী করার দায়িত্ব প্রকৌশলীদের। তাই প্রতিটি কাজে নিবার্হী প্রকৌশলীকে মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে তদারকী করার পরামর্শ দেন মেয়র। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মেয়র আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চলমান প্রকল্প কোনটি কোন পর্যায়ে আছে, তার একটি ফিরিস্তি দেয়ার জন্য চসিক প্রধান প্রকৌশলীকে বলেন। সভায় চসিক প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমদ, অতিরিক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী আবু ছালেহ, আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, মনিরুল হুদা সহ নিবার্হী প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: