দ্বাদশ শ্রেণীতে “ভর্তি ফি” নির্ধারন করুন: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ মে ২০১৭, বুধবার: উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণীতে নির্দিষ্ট “ভর্তি ফি” নির্ধারনের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর। শিক্ষা বাণিজ্যকায়ন ঠেকাতেই সরকারের নানা উদ্যোগ ও সাফল্য অক্ষুন্ন রেখে কলেজ সমূহের বেপোরোয়া ভর্তি বানিজ্য বন্ধে অতিসত্তর দেশের সকল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি “ভর্তি ফি” নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ পরিবার।
এ সংক্রান্তে এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারন সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, বিগত দুই বছরের অধিক সময় যাবত সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতিমালা পূর্ণ কার্যকরের দাবীতে চট্টগ্রামের সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যকায়ন বিরোধী কর্মসূচী ও দাবী আদায়ে কাজ করছি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।
এ জন্য বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে এবারও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সকল কলেজের অতি ভর্তি ফি বন্ধ করার উদ্যোগ হিসাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৬টি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছে চট্টলার ছাত্রলীগ। মূলত একাদশ শ্রেণীর ভর্তি নীতিমালায় সরকারের নির্ধারিত ভর্তি ফি কার্যকর হচ্ছে কিনা এ সংক্রান্তে অভিভাবকদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে এই অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর। কিন্তু অভিযোগ বাক্সে এ কদিনে বেশ কিছু অভিযোগ পত্র জমা পড়েছে যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অভিযোগ পত্রে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ একাদশ শ্রেণীর পাঠ শেষ করে দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতরিক্ত বাণিজ্যকায়নের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। আমরা নগরীর সবকটি কলেজে এর মধ্যেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি এবং স্পষ্টত দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে যে সকল বেসরকারী, এমপিও ভুক্ত, নন-এমপিও ভুক্ত, বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিচালিত হওয়া কলেজসমূহের কতৃপক্ষ উচ্চমাধ্যমিকের ২য় বর্ষ বা দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য মাত্রাতরিক্ত ভর্তি ফি, সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, বিবিধ ফি শিরোনামে নোটিশ কলেজে কলেজে ঝুলিয়েছেন। অতি ভর্তি ফি দাবী করা শিক্ষা বানিজ্যিকায়নের মত চরম দূর্নীতি বলে মনে করেন এই দুই ছাত্রনেতা এসময় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের এই দুই শীর্ষ নেতা আরো বলেন, একাদশ শ্রেণীতে সরকার সুন্দর একটি ভর্তি নীতিমালা তৈরি করলেও দ্বাদশ শ্রেণীতে এরকম কোন ভর্তি নীতিমালা তৈরি করেনি। যার সুযোগ নিতে এ সকল কলেজ সমূহ ৮,১০,১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তিকালীন সময়ে সংগ্রহ করছে।
কিন্তু একাদশ শ্রেণীতে মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকূল্যে ১ হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় সর্বসাকৌল্যে ৩ হাজার টাকা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না এই নির্দেশনা থাকলেও তার চেয়ে বহুগুন বেশী অর্থ আদায় করছে দ্বাদশ শ্রেনীর ভর্তির ক্ষেত্রে। একাদশ শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর ভর্তিতে এ বিপুল পরিমান ভর্তি ফি নির্ধারন করা অবাস্তব ও অকল্পনীয় বলে আমরা মনে করছি। আর এতে করে একাদশ শ্রেনীর ভর্তি নীতিমালা প্রনয়নের যে উদ্দেশ্য নিহীত ছিল তা আজ খর্ব হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
এসময় ইমরান আহমেদ ইমু ও নূরুল আজিম রনি অবিবেচক, অসামঞ্জস্যপপূর্ন ও সীমাহীন দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণীতে অতিরিক্ত টাকায় চলমান ভর্তি পক্রিয়া বন্ধ করার আহবান জানান এবং অতিসত্বর দ্বাদশ শ্রেণীতে নতুন ভর্তি ফি কাঠামো তৈরী করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিকট জোর দাবী জানিয়ে মাউশি ও শিক্ষা বোর্ড প্রধানদের এ নিয়ে কার্যকর ভূমিকায় অংশ গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*