দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায়

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ, ১০ মে ২০১৭, বুধবার: মহাসড়ক যানজট ও দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে সরকার দোহাজারীতে ১ কোটি ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয়। উদ্বোধনের অপেক্ষায় দৃষ্টিনন্দন এ ভবনটি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন দোহাজারী শঙ্খ নদীর ব্রীজের পাশ্ববর্তী ৩৩ শতক জমির উপর দ্বিতল বিশিষ্ট হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। ২০০৮ সালে শুরু হয়ে ১ বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে চলতি বছর ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেছেন নব নির্মিত ভবনে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ। দ্বিতল বিশিষ্ট এ ভবনের নিচে ৭টি এবং দ্বিতীয় ৫টি কক্ষ বিশিষ্ট এ ভবনটি দৃষ্টিনন্দন হিসেবে হাইওয়ে সড়কের পাশে সবার নজর কাড়ে। একজন ইন্সপেক্টর, একজন সাব ইন্সপেক্টর, ১৪ জন কনষ্টেবল নিয়ে এ কার্যালয়ে কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর যোগদানের পর থেকে এ সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে জনবল ও যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে কাজ চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। একটি মাত্র পিকআপ ভ্যান থাকলেও, তা জরাজীর্ণ। পটিয়ার সীমান্তবর্তী মুজাফ্ফরাবাদ থেকে লোহাগাড়ার চুনতী পর্যন্ত এ বিশাল এলাকা জুড়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে হাইওয়ে পুলিশের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় তড়িঘড়ি করে নব নির্মিত ভবনে চলতি বছর ১৩ মার্চ কাজ শুরু করেছেন। এখনো পর্যন্ত ঠিকাদারের লোকজন বৈদ্যুতিক কাজসহ অনেক কাজ বাকী রেখেছেন। সব কাজ শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হবে বলে তিনি জানান। সে সাথে দেশের ২২টি মহাসড়কে ত্রি-চক্র যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকার পরও সিএনজি টেক্সী চলাচলের কারণে কিছুটা দুর্ঘটনা এখনো ঘটছে।  এ সকল সিএনজি টেক্সী মহাসড়কে চলার সময় আটক করলে স্থানীয় ও রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের চাপের মুখে পড়তে হয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। ট্রলি ও সিএনজি টেক্সী চালকদের অভিযোগ এ সকল যানবাহন গুলো হাইওয়ে সড়কে চলাচলের সময় স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। অন্যথায় তারা বিভিন্ন হয়রানির শিকার হন। এ বিষয়টি অস্বীকার করে হাইওয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেছেন, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্সবিহীন এবং সরকারি আদেশ অমান্যকারী কোন যাববাহন পেলেই তারা আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: