দোকানের পণ্য বিক্রির বকেয়া ১২০ টাকা চাইতে গিয়ে এক মুদি দোকানি খুন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: দোকানের পণ্য বিক্রির বকেয়া ১২০ টাকা চাইতে গিয়ে এক মুদি দোকানি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, বাকিতে পণ্য নেওয়া ব্যক্তি ও তাঁর লোকজনের কিল-ঘুষি ও লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই দোকানির মৃত্যু হয়। গতকাল সোমবার রাতে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বালিয়া গুদারাঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিহত ব্যক্তির লাশ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. তহজ্জত আলী ওরফে ছুট্টু মিয়া (৫০)। তিনি আগিয়া ইউনিয়নের বেড়াইল গ্রামের মৃত চিনু শেখের ছেলে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. তহজ্জত আলী কয়েক বছর ধরে তাঁর বাড়ির পাশে বালিয়া গুদারাঘাটে মুদি দোকান চালাচ্ছিলেন। ১০ থেকে ১২ দিন আগে একই গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে সাদেক মিয়া (৩৫) ওই দোকান থেকে ১২০ টাকার পণ্য বাকিতে কেনেন। কথা ছিল, পর দিন ওই টাকা তিনি পরিশোধ করবেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুদি দোকানি তহজ্জত পাওনা টাকা চাইতে সাদেকের কাছে যান। সাদেক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দুজনের মধ্য কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাদেক মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে তহজ্জত আলীকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তহজ্জতকে উদ্ধার করে রাত নয়টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর থেকে সাদেক মিয়া পলাতক। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ সাদেকের চাচি বেগম আক্তারকে (৪৫) গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটক করে।
আজ সকালে নিহত তহজ্জতের ছেলে মো. আশিক মিয়া বাদী হয়ে সাদেককে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় মামলা করেছেন। পরে আটক বেগম আক্তারকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*