দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: রিজভী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: ‘চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা উচিত’ বলে তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তাকে (হাছান) তথ্যমন্ত্রী করে সরকার অন্যায় করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাকে এনএসআই প্রধান করা। রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। গত বুধবার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আশেপাশের কয়েকটি গাড়ি এবং খাবার হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আগুন ছড়ায় ওয়াহেদ ম্যানসনে। আর সেখানে বিপুল দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে। সরকারি হিসেবে ৬৭ জনের প্রাণহানির একটি বড় অংশই রাস্তা এবং খাবার হোটেলে হয়েছে। বাকিটা হয়েছে ওয়াহেদ ম্যানসনে। সেখানকার তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। আর নিচতলা ও দোতলায় বিভিন্ন পণ্য মজুদ ছিল। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে এক আলোচনায় বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চকবাজারে আগুনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কী সম্পর্ক আমি জানি না। তবে পেট্রোলবোমার মতো চকবাজারে আগুনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘এই ধরনের উদ্ভট লোককে তথ্যমন্ত্রী করে আমার মনে হয় সরকার অন্যায় করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত তাকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই ) প্রধান করা।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রায় একশ মানুষের মৃত্যুতে গোটা জাতির সঙ্গে আমরাও শোকাহত। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার সারাদেশে শোক দিবস পালন করছি। এখনও নিখোঁজ ১৫ জনের অধিক। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধরা কাতরাচ্ছেন। স্বজনদের কান্না আর বুক ফাটা আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।’ রিজভী বলেন, ‘সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, ‘সরকার চকবাজার ট্রাজেডির দায় এড়াতে পারে না।’ রিজভী বলেন, ‘আমি সরকারকে বলবো এই ঘটনার দায় যেহেতু স্বীকার করেছেন এখন পদত্যাগ করুন।’

অগ্নিকাণ্ডের রাতে নাজিমউদ্দিন রোডে পুরানা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বেগম খালেদা জিয়া নির্ঘুম কাটিয়েছেন দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের সারারাত চারদিকে বিকট শব্দ, মানুষের আর্তচিৎকার, রাসায়নিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ গ্রাস করেছিল আশপাশের এলাকা। অল্প দূরত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। তার সারারাত উৎকন্ঠায় কেটেছে। আর আমরা উৎকন্ঠা নিয়ে আল্লাহর কাছে তার নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছি।’ চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়াকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হতে পারে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী একটি ভুয়া মামলায় কারাগারে আছেন, স্থানান্তর নয় এই মুহূর্তে তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, আহমেদ আযম খান, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: