দেশের শাসন ব্যবস্থা এক কেন্দ্রিক : সুলতানা কামাল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা এক কেন্দ্রিক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এদেশের সর্বত্র ক্ষমতার tib
বিকেন্দ্রিকরণের সমস্যা বিরাজমান বলেও মনে করেন তিনি। বৃহস্পতিবার টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ‘মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান, শাসন কোনো না কোনোভাবে এক কেন্দ্রিকতার মধ্যে থাকছে। নিরীক্ষণের জন্য যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে তদবিরের সংস্কৃতি মহামারীর মতো হয়ে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহি না করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রয়োজন। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,sultana মহাহিসাব-নিরীক্ষকের আওতায় আর্থিক নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা থাকলেও প্রায়োগিক কাজে সেটি ব্যাহত হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র দেখা যায়। ৬ বছর ধরে নিরীক্ষা আইন খসড়া হয়ে আছে। কিন্তু সেটি এখন পর্যন্ত অনুমোদিত হচ্ছে না। যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিপু রায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়কে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। বাজেট, নিয়োগ, শিক্ষা সংক্রান্ত ছুটি, পদোন্নতি, নিয়মাবলী, আইনগত বিষয় ও সরকারি ক্রয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় সাংবিধানিক সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম নয়। পূর্বের তুলনায় বাজেট, অডিট ইউনিট এবং সরকারের জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সিএজির প্রয়োজনীয় ও দক্ষ জনবল বৃদ্ধি না পাওয়া, ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রামের জনবল দ্বারাই বর্তমান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির অনুমোদিত পদের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৫০০টি। মাত্র ২ হাজার ৫৬৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা সরকারের প্রায় ৩০ হাজার সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরিতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয় ও অনেক প্রতিবেদনে ভুল থাকে। এছাড়া জবাবদিহিতার সমস্যা ও তথ্য প্রকাশ প্রক্রিয়াও সচল নয়। প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশিক্ষণে বিশেষ সুযোগ প্রাপ্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, নিরীক্ষক, অধস্তন নিরীক্ষক ও গাড়িচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিটের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু অনিয়মের চিত্র প্রতিবেদনে উঠে আসে। সিএজি কার্যালয়ের নিরীক্ষা দলের বিরুদ্ধে অডিট ইউনিটের নিকট থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে যার পরিমাণ কমপক্ষে ১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঘুষের পরিমাণ নির্ভর করে অডিট ইউনিটের বাজেটের পরিমাণের ওপর। এছাড়া তিন বছর পর বদলি করার নিয়ম থাকলেও ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাবে একই কার্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা, অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ সম্পন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠা যেমন বন্ডেড ওয়ার হাউজ, ডিফেন্স অডিটের পূর্ত সংক্রান্ত, এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন কলেজ ও স্কুল নিরীক্ষা করার জন্য ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ইত্যাদি। মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়ের সুশাসনের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য টিআইবি সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী ২০ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে। টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: