‘দেশের জ্বালানি সেক্টরে যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলের অভাব’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০১৭, শনিবার: দেশের জ্বালানি সেক্টরে যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ এবং যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলের অভাব আছে। এই সমস্যাগুলো সমাধান না করলে জিডিপিতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টি (ডিসিসিআই)।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ২০৩০: চ্যালেঞ্জ ও সুযোগসমূহ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম। ডিসিসিআই সভাপতি মো. আবুল কাশেম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানিখাতে কর্মরত মধ্যম থেকে শুরু করে শীর্ষ পরিচালকদেরও টেকনিক্যাল যোগ্যতা খুবই নিম্নমানের। এটা একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবসম্পদ তার কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলে কখনোই তারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। তাই তারা সরকারকে এই দিকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম সমস্যা হলো জমি সংকট। দেশে বিদ্যমান প্রযুক্তিতে ১০০ মেগাওয়াট একটি নবায়নযোগ্য পাওয়ার প্লান্ট করতে হলে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ একর জায়গার প্রয়োজন হয়। ফলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই সাধারণ এর ব্যবহার থেকে পিছিয়ে আছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ‘আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট আছে, খরচও একটু বেশি। এর অন্যতম কারণ আমাদের দেশের বিদ্যুৎ এখনো গ্যাসনির্ভর। বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসে চলে। আর গ্যাসের সংকটতো আছেই। ফলে আমাদের বিদ্যুতের জন্য গ্যাস সরবরাহ করতে গেলে অন্যদিকে সংকট পড়ে। দুইটার মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে সিস্টেম লসে পড়তে হয়। তবে বর্তমানে সিস্টেম লস ৩৫ শতাংশ থেকে নেমে ১০ শতাংশে এসেছে। আগামী বছর গ্যাসের উৎপাদন আরও ৪০ শতাংশ বাড়বে।’ ফলে বিদ্যুতের সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে তার অনেকগুলো সনাতন প্রযুক্তির। তাই এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও কম। মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২.৫ বিলিয়নের সহায়তা চুক্তি হয়েছে। ভারত থেকে ইতিমধ্যে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই খাতে উন্নতি করতে পারবো।’
তৌফিক এ ইলাহি বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে সরকার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে অনেক সময় গবেষণা করেছে। তারপরে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে আমদের দেশ অনেক ছোট, কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বড়। তাই এর মধ্যেই আমাদের সমাধান করতে হবে।’ রামপাল নিয়ে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত সরকার যতটা উন্নতি করেছে আমরা ততটা করতে পারিনি। ভারতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে তিন টাকা খরচ হলেও আমাদের দেশে খরচ পড়ে ১৭ টাকা। আশা করি আমাদের দেশের গবেষকরা গবেষণা করে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন।’।

Leave a Reply

%d bloggers like this: