দারুস সালাম এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, শনিবার: আবারও রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। আগে সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে এলেও আজ বেতন-ভাতার সমন্বয়, কারাখানায় পোশাক শ্রমিককে মারধর, ও ছাটাইয়ের অভিযোগ এনে রাস্তায় নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানারা শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ, মিরপুর-১৪ থেকেও শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সেখানকার দ্য ফাইনারি লিমিটেড, অ্যাপারেল এক্সপোর্ট লিমিটেড, ডেভিলন, আহম্মেদ ফ্যাশনস ও গোল্ডেন গার্মেন্টস নামে পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজ রাস্তায় নেমেছেন। শ্রমিক বিক্ষোভের ফলে ওইসব কারাখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভাষানটেকের তামান্না গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সকালে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, “শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে।” এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পুলিশ-গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেশকয়েকটি যাত্রীবাহী বাসসহ গাড়ি ভাঙচুর করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দফায় দফায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরাতে লাঠিচার্জ করলে কমপক্ষে ১২জন আহত হন। এসময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় এক ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঢাকা-১ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (এসপি) সানা সামিনুর রহমান জানান, সকালে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। ফের যেন তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা।

শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনে ইতোমধ্যে পোশাক শ্রমিক-মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোতে কোনো বৈষম্য বা অসঙ্গতি থেকে থাকলে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তা সংশোধন করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত গ্রেডিংয়েই বেতন পাবেন শ্রমিকরা। বৈঠকে এ সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের পাঁচ জন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাঁচজন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব থাকবেন। এই কমিটি চলতি মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোর কোনো গ্রেডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন প্রত্যাশা অনুযায়ী পাননি তারা। কারও কারও ক্ষেত্রে বেতন আগের চেয়ে কমে গেছে। এদিকে প্রাপ্য বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসার পর নতুন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি গত বৃহস্পতিবার প্রথম সভাও করেছে। ০পোশাক শ্রমিকদের জন্য গত বছর ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোর সাতটি গ্রেডের মধ্যে যে তিনটি গ্রেড নিয়ে আপত্তি এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছেন কমিটির প্রধান শ্রম সচিব আফরোজা খান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: