দাম কমিয়ে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা ম্যাগির

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : মুহূর্তেই তৈরি করা যায়, রন্ধন প্রণালীও বেশ সহজ। স্বাদও ভালো। তাই বাংলাদেশে বাজার ধরতে কষ্ট করতে হয়নি ইনস্ট্যান্ট নুডলস ম্যাগির। Magiতাদের জনপ্রিয়তায় বাজারে আসে আরও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। দিনে দিনে বাড়ে বিক্রি, আরও লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ১০ টাকার এক প্যাকেট ম্যাগির দাম পাঁচ বছরে প্রায় দ্বিগুণ দামে ১৭ টাকায় কিনতে হয় গ্রাহকদের। সেই পণ্যই হঠাৎ দাম কমিয়ে সাড়ে ১২ টাকা করে বিক্রি করছে ম্যাগির বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান নেসলে বাংলাদেশ। ভারতের উত্তর প্রদেশে ম্যাগি নুডলসে মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়ার পর বাংলাদেশেও গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পাশাপাশি, নুড্লসের স্বাদ বাড়াতে যে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট যোগ করা হয়, তার পরিমাণও ছিল অনেক বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত সিসা থাকলে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে প্রবল নিউমোনিয়া হতে পারে। ফুসফুসের বায়ুথলির পর্দা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। শরীরের প্রতিরোধক ক্ষমতাও কমে যায়। বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের বাজার থেকে ম্যাগি তুলে নেয়ার নির্দেশও দিয়েছে প্রদেশটির খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দপ্তর ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’। এই অবস্থায় ম্যাগি নুডলস শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কি না, নিশ্চিত না হওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে কমে গেছে পণ্যের চাহিদা। ঢাকার একাধিক বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগেও সাত দিনে ছোট একটি দোকানেও গড়ে ৩০ থেকে ৪০ প্যাকেট এবং অন্যান্যগুলো মাসে ১৫ থেকে ২০ প্যাকেট বিক্রি হতো। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বিক্রি কিছুটা কমেছে। নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় এক বিক্রেতা বলেন, ‘আগে যত বিক্রি হতো, এখন হয় তার অর্ধেক’। কেন-জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা বলেন, ‘কি যেন গুজব ছড়িয়েছে, নুডলসে নাকি বিষ পাওয়া গেছে’। এই পরিস্থিতিতে ম্যাগির চার প্যাকেটের একটি মোড়কের দাম কমিয়ে করা হয়েছে ৫০ টাকা, আর আট প্যাকেটের ১০০ টাকা। তবে দাম কমানোর পরও চাহিদা তেমন বাড়েনি পণ্যটির। দোকানিরা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বি অন্য কোম্পানির পণ্যই বিক্রি হচ্ছে বেশি। ভারতের উত্তর প্রদেশে ম্যাগিতে মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়ার খবর পাওয়ার পর ম্যাগি কেনা ছেড়ে দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এস এ আল-ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমার নাতনির খুব পছন্দ নুডলস। কিন্তু তার ক্ষতি হয় এমন কিছু তো আর কিনতে পারি না’। ম্যাগির বাংলাদেশে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে অবশ্য দাবি করেছে, ভারতে যে পণ্য বাজারজাত হয় বাংলাদেশে আসে না সেগুলো। গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন হয় এই পণ্য। আর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয় এই কারখানায়। তা ছাড়া বিএসটিআইসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরীক্ষায় ক্ষতিকারক কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলেও দাবি নেসলের। তবে ম্যাগির ভারতকাণ্ডের পর বিএসটিআই নতুন করে ম্যাগিসহ সব ব্র্যান্ডের নুডলই নতুন করে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য বাজার থেকে নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই অবস্থায় বাজার ধরে রাখতেই ম্যাগির দাম এক ধাপে ২৫ শতাংশেরও বেশি দাম কমানো হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে ম্যাগির বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কয়েক দফা টেলিফোনাপের পর ইমেইলে প্রশ্ন নেন নেসলে বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার জবাব আসেনি। সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*