দরিদ্র হ্রাসকরণ একটি কঠিন কাজ হলেও বাংলাদেশ এ থেকে ধীরে ধীরে উত্তোরন করছে: সিটি মেয়র

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ মে ২০১৭, মঙ্গলবার: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ইউএনডিপি’র মাধ্যমে জাতীয় নগর দরিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে প্রথম ধাপে দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশন ও ৬টি পৌরসভাকে নিয়ে প্রস্তুতিমূলক গবেষনার কাজ শুরু করেছে এনইউপিআরপি। এ কর্মসূচির অধীনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে মহল্লা ভিত্তিক ও সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন করেছে ডিএম ওয়াচ। ৯ মে ২০১৭ খ্রি. মঙ্গলবার, সকালে নগরভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে মহল্লা ও সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন ফলাফল অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। অবহিতকরণ সভায় প্যানেল মেয়র,সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহ সিভিল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অবহিতকরণ সভায় প্যানেল মেয়র-১ চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্যানেল মেয়র-২ মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হারুন, ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ,স্থপতি আশিক ইমরান, চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম সহ কাউন্সিলরবৃন্দ মতামত ব্যক্ত করেন। অবহিতকরণ সভায় জাতীয় নগর দরিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন আবদুল কাইয়ুম, মহল্লা ও সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন পদ্ধতি উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ বায়েজিদ হাসান, মহল্লা ও সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন ফলাফল উপস্থাপন করেন ডিএমএইচ’র কনসালটেন্ট ও নগর পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন। অবহিতকরণ সভায় দরিদ্র বসতি উন্নয়নে কমিউনিটি গ্রুপ গঠন, বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত উন্নয়ন, ব্রীজ নির্মাণ, বস্তির সাথে লিংরোড নির্মাণসহ বস্তিবাসীদের জীবন-মান উন্নয়নে এনইউপিআরপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে জানানো হয়। মহল্লা ও সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বস্তিবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব। দারিদ্র হ্রাসকরণ একটি কঠিন কাজ হলেও বাংলাদেশ এ থেকে ধীরে ধীরে উত্তোরন করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশে উপনিত হয়েছে, আশা করা যায় ২০২১ সনের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ, ২০৩০ সনের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন, ২০৪১ সনের আগেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় নগরী। চট্টগ্রামকে অবহেলার চোখে দেখার কোন সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম গুরুত্বহীন হলে বা পিছিয়ে গেলে দেশও পিছিয়ে যাবে। সে দৃষ্টিকোন থেকে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় উন্নয়ন করতে হবে। প্রতিকূল ও প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নগরী ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ৯২% আমদানী-রপ্তানী সম্পাদিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিশাল একটি অবদান রয়েছে। তাদের পাঠানো অর্থ দরিদ্র হ্রাসে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। মেয়র আশা করেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সকলের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম নগরীর কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*