দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধাবস্থা: চীন-আমেরিকার মহড়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৪ নভেম্বর: যুদ্ধের দামামা বাজছে দক্ষিণ চীন সাগরে। রণতরী পাঠানোর পর আমেরিকা চীনকে জঙ্গিবিমান দিয়ে ঘিরতে শুরু করেছে। জাপান আর অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই জঙ্গিবিমান মোতায়েন করেছে আমেরিকা। পাল্টা জবাবে ভিয়েতনামের

050707-F-3961R-002 	Two U.S. Air Force F-15E Strike Eagles and a B-2 Spirit bomber fly in formation over the Pacific Ocean on July 7, 2005.  The Strike Eagles of the 391st Expeditionary Force Squadron and the stealth bomber from the 393rd Expeditionary Bomb Squadron at Whiteman Air Force Base, Mo., are deployed to Andersen Air Force Base, Guam, to maintain a continuous presence in the Asia-Pacific region.  DoD photo by Tech. Sgt. Cecilio Ricardo, U.S. Air Force.  (Released)

কাছে মহড়া শুরু করেছে ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত চীনা বিমানবহরও। ইউএসএস লাসেন চীন সাগরে ঢোকার পর থেকেই ওয়াশিংটনকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে বেজিং। এই হুমকির জবাব না দেওয়া আমেরিকার পক্ষে খুব একটা সম্মানজনক হবে না। তাই পেন্টাগন আর পিছু হঠতে নারাজ। দক্ষিণ চীন সাগরে ইতিমধ্যেই হাজির হওয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস লাসেনকে সাহায্য করতে আরও বেশ কিছু রণতরী দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু, খুব গোপনে পেন্টাগন তার চেয়েও অনেক বড় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে বলে জানা গেছে। চীনকে কিছুই জানতে না দিয়ে এফ-৩৫ এবং বি-১ বম্বার জঙ্গিবিমানের বেশ কয়েকটি স্কোয়াড্রন জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ায় মোতায়েন করে ফেলেছেন বারাক ওবামা। বি-১ বম্বার সুপারসনিক গতিবেগ এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ভয়ঙ্কর হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে আমেরিকা এই যুদ্ধবিমানগুলো মোতায়েন করেছে । অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে চীনে হামলা চালানো এই সব ফাইটার জেটগুলোর কাছে সহজ হবে। চীনের আরও কাছে, জাপানে পেন্টাগন নাকি নিয়ে এসেছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একাধিক স্কোয়াড্রন। অবিশ্বাস্য পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে আক্রমণের ক্ষমতা রয়েছে এফ-৩৫-এর। মার্কিন যুদ্ধবিমান তাদের ঘিরছে বলে খবর পেয়েই পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন শুরু করে দিয়েছেন শি চীনফিং। চীনা নৌবাহিনীর কিছু যুদ্ধবিমান ভিয়েতনামের খুব কাছে ক্ষেপণাস্ত্র-সহ মহড়া শুরু করেছে। শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চীনা যুদ্ধবিমানের এই ওড়াউড়ির ভিডিও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তরফেই প্রকাশ করা হয়েছে। কোন বিমান ঘাঁটি থেকে এই জঙ্গিবিমানগুলো মহড়া দেওয়া শুরু করল, তা চীন জানায়নি। তবে ভিডিও দেখে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের খুব কাছের একটি বিমানঘাঁটি থেকে চীনের এই মহড়া শুরু হয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ভালো নয়। সেই বিরোধও দক্ষিণ চীন সাগরের দখল নিয়েই। চীনা নৌবাহিনীর ভয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে খনিজ তেল অনুসন্ধানের কাজ করতে পারছিল না ভিয়েতনাম। অবশেষে ভারতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে শুরু করেছে সেই কাজ। এ বার জলসীমা লঙ্ঘন নিয়ে চীন-আমেরিকা দ্বৈরথে শত্রুর শত্রুকেই বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছে ভিয়েতনাম। ফিলিপিন্সের মতো ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আর এক বড় শক্তি জাপানও এই দ্বৈরথে আমেরিকার পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তার পরই ভিয়েতনাম উপকুলের কাছে চীনা যুদ্ধবিমানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: