দক্ষিণ চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়ায় সরকার প্রধানকে অভিনন্দন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার: গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব তার নাগরিকদের বাসস্থনের অধিকার ও স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা। বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে ভূমির স্বল্পতা সমস্যা প্রকট। লোকদের খাবারের জন্য কৃষি ভূমির প্রয়োজন। এ সব বিষয় বিবেচনায় রেখে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া চা বাগান ও চন্দনাইশ উপজেলায় কাঞ্চননগর-দোহাজারী রেলসড়কের দুপাশে শিল্পাঞ্চল ও শহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। পটিয়া চা বাগান কাঞ্চননগর-দোহাজারী রেলসড়কের উভয় পাশের ভূমিই পাহাড়ী অঞ্চল। যেহেতু আনোয়ারা শিল্প জোনের মত সরকারের কাছে দাবি তুলতে পারি দোহাজারী সাংগু নদীর পাশ ও হাশিমপুর-কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নে কাঞ্চননগরে হাজার হাজার একর সরকারের খাস জমি ও রেলের খালি জায়গায় পরিকল্পিত শিল্প জোন করে এলাকার বেকার সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। পটিয়া চা বাগান ও কাঞ্চননগর-দোহাজারী শিল্পাঞ্চলের বিবেচনায় আনা হলে কয়েক লাখ বেকার লোকের কর্মসংস্থান করে চট্টগ্রাম মহানগরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করতে পারে এবং শিল্পনগরী স্থাপন করে বিভিন্ন শিল্প স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে প্রকৃতিঘেরা একমাত্র বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদলের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদলকে সচেতন নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও মহাসচিব কামরুল হুদা অভিনন্দন জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আজ-কালের মধ্যেই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি প্রস্তাবনা সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি প্রদান করা হচ্ছে। গত ২৯ মার্চ সাংসদ মঈন উদ্দিন বাদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ঘেরা এলাকায় সমন্বিতভাবে শিল্পায়ন, বনায়ন, এগ্রোফরেস্ট, বন্যপশু সংরক্ষণ, বিনোদন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি বন্দোবস্তির তথ্য ও মতামত দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বেজার ব্যবস্থাপক (যুগ্ম সচিব) মো. মনিরুজ্জামান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভূমি প্রস্তাবনার জন্য সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কাছে চিঠি প্রেরণ করছে। গত মঙ্গলবার তা অনুমোদনের পর আজ-কালের মধ্যে তিন উপজেলার সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাদের নিকট সেই চিঠি পৌঁছে যাবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। মিরসরাই ও আনোয়ারা উপজেলার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পর তিন উপজেলাকে ঘিরে নতুন অঞ্চল গড়ে উঠছে। মিরসরাই ও আনোয়ারা উপজেলায় সাগরঘেরা অঞ্চলে বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। বোয়ালখালী পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় প্রস্তাবিত এই বিশেষ শিল্পাঞ্চল পাহাড়ঘেরা অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ভাঙালজুড়ি খাল চন্দনাইশ উপজেলা থেকে উৎপত্তি হয়ে পাহাড়ের বুক ছিড়ে কর্ণফুলীতে মিশেছে। খালের দুই তীরে ৩০-৩৫ হাজার হেক্টর পাহাড়ি ও সমতল ভূমি রয়েছে, যা শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের উপযোগী। খালটি ঘিরে বড় আকারের উন্নতমানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও খালের পানি ব্যবহার করে পার্বত্যজেলাসহ আশপাশের এলাকায় কৃষিকাজে ব্যবহারের আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়াও খালের সুমিষ্ট পানি পরিশোধন করে নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা যেতে পারে। তবে খালের মোহনায় ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম ওয়াসা ভাঙালজুড়ি নামে প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সাংসদ বাদল আরও বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, জলসেচ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অন্যান্য শিল্পায়নের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এখানে বিশ্বমানের আইটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা সম্ভব। নদী-খাল ও পাহাড়-সমতলে প্রাকৃতিক পরিবেশেই এই বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি, যা বাংলাদেশের জন্য মডেল হয়ে থাকবে।
বেজা সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীন প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে মিরসরাই ও আনোয়ারা বিশেষ অর্থনৈতিক জোন উদ্বোধন করেছেন। মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন নির্মাণ কাজ জোরেসোরে চলছে। আনোয়ারার অর্থনৈতিক জোনের কাজ ঢিমেতালে চলছে। এই দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রামের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচিত হবে। তিন উপজেলাকে ঘিরে প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নতুন মাত্রা যোগ করবে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: