দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুন জায়ে-ইনের জয়ে আচমকা দিয়েছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার: দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদ্ধারপন্থি নেতা তথা মানবাধিকার আইনজীবি মুন জায়ে-ইনের জয়ে আন্তর্জাতিক সমীকরণটা আচমকা কিছুটা দিয়েছে। প্রায় এক দশক পর কট্টরপন্থীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া নির্বাচিত করল, যিনি আলোচনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমস্যা মেটানোর পক্ষপাতী।
মুনের এই নীতির কারণেই তার জয়ে খানিকটা বিব্রত ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি রুখতে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে সঙ্গে নিয়ে যখন সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত কয়েক মাস ধরে প্রবল রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। বিক্ষোভের মুখে অভিসংশিত হয়ে এখন কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হে। দেশটির গত ৬০ বছরের ইতিহাসে দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্টের অভিসংশনের ঘটনা এই প্রথম। মঙ্গলবার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সেই রাজনৈতিক টানাপড়েনে আপাতত ইতি পড়ল। মুন জায়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় এক দশক ধরে চলতে থাকা কট্টরপন্থী শাসনেও ইতি পড়ল। আবার ক্ষমতায় ফিরলেন উদারপন্থিরা।
এতদিন যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতের পক্ষপাতী ছিলেন। ফলে দুই কোরিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছিল। কিন্তু নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী নীতি নেওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত করা যায়নি, সুতরাং সমাধানের একমাত্র পথ আলোচনা, এমনটাই মনে করেন নতুন প্রেসিডেন্ট।
সিউলে এবার মুন ক্ষমতায় আসায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মুন জায়ে-ইন এবার দক্ষিণ কোরিয়াকে আর সেই পথে হাঁটতে দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসী অবস্থান নেওয়াকে মুন একেবারেই সমর্থন করছেন না। বরং চীনের দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরু করার পক্ষে দক্ষিণের নতুন প্রেসিডেন্ট। ফলে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগের চেয়েও কঠিন হয়ে উঠল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*