তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান প্রতিহত, নিহত ৬০

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ জুলাই: তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে সামরিক বাহিনীর একটি অভ্যুত্থান চেষ্টাকে ‘প্রতিহত’ করার পর বর্তমানে দেশটির পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে। তুর্কি টেলিভিশন এনটিভি শনিবার সকালে এমআইটি’র মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে।gun
টেলিভিশনটি বলছে, রাজধানী আঙ্কারায় অভ্যুত্থান চেষ্টার পক্ষে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে সরকারি ফাইটার বিমান। সরকারি বাহিনী অভ্যুত্থানকারীদের হাত থেকে আঙ্কারার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা টিআরটি’র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত শতাধিক সেনাকে আটক করেছে পুলিশ।
দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিহত ৪২: তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে ১৭ পুলিশসহ অন্তত ৬০ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। অভ্যুত্থানকারীরা হেলিকপ্টারের সহায়তায় রাজধানী আঙ্কারায় পুলিশের বিশেষ বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালালে ১৭ পুলিশ নিহত হন। তুর্কি সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
এরদোগানের প্রতি আমেরিকার সমর্থন: এদিকে, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকা। দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানান।
টেলিভিশনে অভ্যুত্থানের ঘোষণা: এর আগে, রাষ্ট্রীয় একটি টেলিভিশন থেকে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করে যে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে বলে খবরে বলা হয়।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে।
টিভিতে প্রচারিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরদোগান সরকারের করা ডেমোক্রেটিক এবং সেকুল্যর নিয়মকে বাদ দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক সব চুক্তি এখনও বৈধ আছে। অন্য দেশের সাথে তৈরি করা সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছে সেনাবাহিনী।
মোবাইল ফোনে দেয়া এক ভাষণে সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট এরদোগান। প্রতিহতের আহ্বান এরদোগানের: তবে, সরকারের পক্ষ থেকে একে অভ্যুত্থান না বলে ‘সেনাবাহিনীর একটি অংশের ক্ষমতা দখল চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীর একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর’ এই বিদ্রোহ মোকাবেলা করা হবে। এটি (অভ্যুত্থান) সেনাবাহিনীর উপর মহল থেকে নির্দেশিত হয়নি। কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য অপচেষ্টা চলিয়েছে।’ এই বিদ্রোহ নস্যাৎ করতে জনগণকে রাজপথে নেমে আসারও ডাক দেন এরদোগান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছে। আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে গতকাল শুক্রবার রাতভর সংঘর্ষ চলেছে। এ সময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৬০ জন নিহত হয়েছে। তুর্কি সরকারি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৩৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সেনা সদস্য।
সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে এএফপির খবরে দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন এরদোয়ান।
এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ চলছে।
কয়েক ঘণ্টা ধরে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলার পর আজ শনিবার সকালে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছান এরদোগান। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভ্যুত্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। অভ্যুত্থানকারীদের এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। তুরস্ককে কোনো দখলদারের কাছে দেওয়া হবে না। একেপির শত শত সমর্থককে শুভেচ্ছা জানান এরদোয়ান।
অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের ব্যবহৃত বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দেন এরদোগান। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম বলেন, ১২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আনাদোলুর বলছে, আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনের কাছে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সংঘর্ষ চলছে। চলছে বিস্ফোরণ, গোলাগুলি। আকাশে উড়ছে জঙ্গিবিমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্বনেতারা তুর্কি সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা হামলার দায় নেয়নি। তুরস্কে ১৯৬০ সাল থেকে তিনবার সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*