তীব্র গরমে পুড়ছে দেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ মে ২০১৭, মঙ্গলবার: তীব্র গরমে পুড়ছে দেশ। পথে নামলে ঘাম ঝরছে গা বেয়ে। এই ধরনের আবহাওয়ায় ডাবের চাহিদা একটু বেশিই। আর চাহিদা বাড়লে দাম কমে-অর্থনীতির এই সূত্রকে উল্টে দিয়েছেন ডাব বিক্রেতারা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যাবধানে আকার ভেদে প্রতিটি ডাবের দাম বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। তবুও বিক্রি থেমে নেই।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি আড়ৎ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। তার উপর ফুটপাতে দোকান ফেললে পুলিশের বখরা আছেই। এসব মিলিয়ে দাম না বাড়ালে লাভ থাকবে না তেমন। অনেকেই অবশ্য জানিয়েছেন গরমে ডাব বিক্রি বেড়ে যাওয়ায়, বিক্রি বেশি হচ্ছে, তাই আয়ও বেড়েছে তাদের।
শ্যামলী এলাকার দীর্ঘ দিন ফেরি করে ডাব বিক্রি করেন রুবেল। জানালেন, সারা বছর বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করেন। সম্প্রতি ডাবের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর কাওরান বাজার ও সদরঘাট থেকে পাইকারি দরে কিনে আনেন ডাব। সেগুলো ভ্যানে সাজিয়ে ফেরি করে শ্যামলী এলাকায় বিক্রি করেন।
গরম ও ভাইরাসজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় ডাব বিক্রি বেড়েছে বলে জানান এই বিক্রেতা। তবে সামনের সপ্তাহে রমজান শুরু হলে বিক্রি কমে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
রুবেল বলেন, ‘বর্তমানে ডাব বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় লাভ বেশি হচ্ছে। দুইশ ডাব বিক্রি করলে দুই হাজার টাকা লাভ হয়। কিন্তু লাইন খরচ (ফুটপাতের যে চাঁদা) বেশি। আর ডাবের খোসা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিতে চায় না। তাই তাদেরকে বখশিশ দেয়া লাগে।’ রুবেলের তথ্যমতে, সব মিলিয়ে দিনে প্রায় পাঁচশ টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যায় লাভের অংশ থেকে।
আরেক ডাব বিক্রেতা দুপুরের দিকে জানান, ভোরে কাওরান বাজার থেকে আড়াইশো পিস ডাব এনেছেন। এরই মধ্যে প্রায় দেড়শো পিস বিক্রি হয়ে গেছে। কোনো ডাবই ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
যদিও গত মাসে যে ডাব ৩০ টাকায় বিক্রি হতো সেটা এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ৪০ টাকা দামের ডাব বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। আর তার থেকে একটু বড় সাইজের হলেই ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর কাওরানবাজারের আড়ৎদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গরম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাকে করে হাজার হাজার পিস ডাব দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বাজারে আসছে প্রতিদিন। বিশেষ করে রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাব বেশি আসছে। বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে গৃহস্থের বাড়ি থেকে ডাব কিনে সেই ডাব ছোট ছোট ট্রাক তুলে ঢাকায় নিয়ে আসে পাইকাররা। কাওরানবাজারের আড়ৎদাররা এগুলো কিনে নেন তাদের কাছ থেকে। আড়ৎ থেকেই মূলত খুচরা ব্যবসায়ীরা দুই-তিনশ পিস করে কিনে নিয়ে যান সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার জন্য। একেকটি ডাবে লাভ থাকে ন্যূনতম ১০ টাকা। বেশিও থাকে মাঝেমধ্যে।
ডাব কেন খান এমন প্রশ্নে মামুন নামে এক ক্রেতা জানান, ‘ডাবের অনেক উপকার। বিশেষ করে সারাদিন পরিশ্রমের ফলে শরীর অনেক ঘামে। সেটা আসলে একটি ডাব খেলেই পুষিয়ে যায়। এছাড়া ডাবের ভেতরে যে নরম শাঁস, থাকে সেটা খুবই মুখরোচক। তাই ডাব খাবার প্রতি আগ্রহ বেশি।’
ডাব খাওয়ার উপকারীতা নিয়ে বাংলাদেশ গাহস্থ্য অর্থনীতি কলেজের প্রভাষক মুনমুন খান ঢাকাটাইমস কে বলেন, ‘ডাবের পানিতে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমান অনেক। এছাড়া ডাবের পানিতে আয়রনও রয়েছে। রক্ত তৈরি করার জন্য আয়রন হলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত তৈরি হলে প্রতিটি অঙ্গ হবে বেশি শক্তিশালী, ফলে কর্মশক্তিও বাড়বে। দেহে আয়রনের পরিমাণ ঠিক থাকলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।’
ডাবের পানিতে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতিও উচ্চমাত্রায়। এসব খনিজ লবণ দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত। অনেকের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। মাড়ি কালচে লাল হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেবে ডাবের ভেতরে থাকা এসব খনিজ লবণ।
ডাব নিয়মিত খেলে কিডনি রোগ হয় না৷ আবার কিডনি রোগ হলে ডাবের পানি পান করার বিধি নিষেধ আছে৷ তাই ডাবের পানি রোগীকে পান করানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*