তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক পূরণ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ নভেম্বর: সুদের হার কমানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৬ হাজার ৬৯২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে। যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।thaka
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকে আমানতে সুদ হার কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংক থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অনেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি না থাকায় ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েই আমানতে সুদ হার কমিয়েছে। অন্যদিকে এখন সঞ্চয়পত্রে সুদ হার ব্যাংকের চেয়ে বেশি। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল ৩ মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং ৫ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৭১২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। যা গত বছরের চেয়ে ১১৮ কোটি টাকা বেশি। আগস্ট মাসে সঞ্চয়পত্রে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮০ কোটি টাকা বেশি। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪২৭ কোটি টাকা কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ মাসে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর বাইরে সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৬২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। জুলাই মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নিট বিক্রি হয়েছে ৯৭৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ মে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ করে কমিয়ে দেয়। এতে করে বর্তমানে সুদহার ১১ শতাংশের আশপাশে দাঁড়িয়েছে। সঞ্চয়পত্রের বর্তমানের এ সুদহার ব্যাংকের আমানতের তুলনায় বেশি। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম যুগান্তরকে বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতে সুদ হারের তুলনায় অনেক বেশি। এ জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা এবং ব্যাংকে আমানতে সুদের হার কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রকেই বেছে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ২৩ মের আগ পর্যন্ত ৫ বছরমেয়াদি পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনলে ১৩.৪৫ ও ১৩.২৬ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যেত। বর্তমানে ৫ বছরমেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্র সুদ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১.৫২ শতাংশ। ৫ বছরমেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.৭৬ শতাংশ করা হয়েছে। ৩ বছরমেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২.৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে সুদহার করা হয়েছে ১১.৪ শতাংশ। ৩ বছরমেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সুদহার ১৩.২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১.২৮ শতাংশ ও ৫ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩.১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১.২৮ শতাংশ করা হয়েছে।
গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ২৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। তার আগের ২০১২-১৩ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৭৩ কোটি টাকা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: