তিন প্রকল্পে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ জুলাই: তিন প্রকল্পে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার। এর পরিমাণ ১ হাজার ১৭৫ কোটি মার্কিন ডলার- যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে)। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্টান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন কমিটির বৈঠকে এসব ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।shud
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রয়োজনে চড়া সুদে কিছু ঋণ নেয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। ঢালাওভাবে চড়া সুদে ঋণ নিলে পরে তা গলার কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা, প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি সঠিক সময়ে না হয়, তাহলে রিটার্ন পেতে দেরি হবে। ফলে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। তখন সুদ গুণতেই ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হবে।
এ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে সবসময় সহজ শর্তের ঋণ নাও পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চড়া সুদের ঋণ নেয়াটা দোষের কিছু নয়। এখনও এত বেশি ঋণভার আমাদের নেই। বিশ্বের অনেক দেশ প্রচুর ঋণভার নিয়েও চলছে। তবে মূল কথা হচ্ছে ঋণের ব্যবহার। কেননা, ব্যবহার ঠিক না হলে এ ঋণ পরে সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে।
ইআরডি সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসংক্রান্ত মূল প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ হাজার ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয়া হচ্ছে রাশিয়া থেকে। এ সুদের হার লন্ডন ইন্টার ব্যাংকিং অফার রেটের (১৩ জুলাই ছিল ১ দশমিক ২৯, সময়ে সময়ে তা পরিবর্তিত হয়) সঙ্গে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং অন্যান্য চার্জ। সব মিলে তা দাঁড়াবে প্রায় ৪ শতাংশ। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। স্টান্ডিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের সঙ্গে অনুস্বাক্ষরিত খসড়া ঋণ চুক্তির টার্ম অ্যান্ড কন্ডিশনস অনুমোদন দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার জন্য দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) থেকে নেয়া হচ্ছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। ৩ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ। এ ঋণ প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৪০০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ (ইস্ট) পাওয়ার প্ল্যান্ট ইফিসিয়েন্সি ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্টটি বাস্তবায়নে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ২২ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয়া হচ্ছে। ৩ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশের ওপরে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রয়োজনে ২ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে যদি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে সুদ গুণতে হবে অনেক বেশি। তাছাড়া ঋণের বোঝা বাড়বে। যেমন ৫ বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যদি ১০ বছর সময় লেগে যায় তাহলে রিটার্ন পেতে দেরি হবে। ফলে অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি অবলম্বন করা উচিত। কেননা, এসব প্রকল্প থেকে রিটার্ন পেতে সময় লাগবে।
চড়া সূদের ঋণ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম যুগান্তরকে বলেন, সব সময় সহজ শর্তের ঋণ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কিছুটা চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। আমাদের বর্তমানের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিচারে কিছুটা চড়া সুদে ঋণ নেয়া যায়।
সূত্র জানায়, সহজ শর্তের ঋণের ক্ষেত্রে একদিকে সুদের হার কম থাকে। অন্যদিকে গ্রেস পিরিয়ড এবং ঋণ পরিশোধের সময় থাকে বেশি। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সহজ শর্তের ঋণ দিয়ে আসছে। বিশ্বব্যাংকের সার্ভিস চার্জ শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*