তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের মহাসচিব আলমগীর নূরের উদ্বেগ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গণতন্ত্র পুনরোদ্ধার, অবৈধ ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ এবং অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচনের জোর দাবীতে দেশে চলমান আন্দোলন, Tatequeসংগ্রাম ও শান্তিপূর্ণ স্বতস্ফুর্ত অবরোধ কর্মসূচির সফল নেতৃত্বদানকারী মজলুম আপসহীন গণতন্ত্রকামী নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে জিয়া পরিবার এবং ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল শক্তির অপব্যবহার করে অসাংবিধানিক উপায়ে স্বশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেন ক্ষমতাসীনরা। গণতন্ত্রকামী জনতার আন্দোলন নস্যাতের ক্ষমতাসীনদের অপপ্রয়াসকে নীতিগত ভাবে সহযোগিতা না করার জন্য জন-প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা, দেশের সকল গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ এবং দায়ীত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সাথে সাথে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অবৈধ ক্ষমতাসীনদের ওপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমরা দেশ-বিদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মহল, মানবাধীকার সংস্থা সর্বোপরি বহির্বিশ্বের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের তড়িৎ কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দেশের সকল গণতন্ত্রকামী জনতা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ব্যবসায়ীক সংগঠন এবং সর্বস্তরের ছাত্র ও শিক্ষক সমাজকে বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান করছি। উল্লেখ্য যে, অবৈধ ক্ষমতাসীনরা গত বছরের ৫ জানুয়ারী ১৬ কোটি জনতার ভোটাধিকারকে পুলিশ, বিজিবি ও সেনা প্রহরায় ছিনতাই ও লুট করেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে। দেশের প্রতিটি ইউনিট পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া গণতন্ত্রকামী জনতার আন্দোলনের দাবানলকে অস্ত্র দিয়ে মোকাবেলা করতে গিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গত এক বছরের অধিককাল ধরে এই দেশের হাজার হাজার নিরিহ মানুষকে হত্যা করে চলেছে ক্ষমতাসীনরা। ২০ দলীয় এক্যজোটের চলমান আন্দোলন, সংগ্রাম ও শান্তিপূর্ণূ স্বতস্ফুর্ত অবরোধ কর্মসূচিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় ক্ষমতাসীন এজেন্টরা পেট্রোল বোমা, গান পাওডার দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে পরিকল্পিত নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। দেশে চলমান গণহত্যা ও নাশকতায় যে ক্ষমতাসীনদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গৌষ্ঠি জড়িত তা ইতিমধ্যে ব্যপকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনরত নেতা কর্মীদেরকে ক্ষমতাসীনরা একের পর এক ক্রস ফায়ারের নামে হত্যা করছে। আমরা ক্ষমতাসীনদের এরূপ গণতন্ত্র বিধ্বংশী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
Nur
আমরা চলমান আন্দোলন সংগ্রামে আহত, নিহত সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এনটিভি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোসাদ্দেক আলী ফালু সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের নির্শত মুক্তির জোর দাবী করছি এবং দেশব্যাপী গণ-গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও হয়রানী অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান করছি। প্রিয় দেশবাসী, গণমাধ্যম মালিক-সাংবাদিকবৃন্দ এবং জনপ্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ আপনারা লক্ষ্য করেছেন- জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে প্রায় পরাজিত হয়ে ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট চলমান আন্দোলন, সংগ্রাম এবং অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল শক্তির সম্মিলিত যুদ্ধ ঘোষণার পরেও ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ’-এর ‘এক দফার চলমান আন্দোলন নস্যাৎ করার ক্ষমতাসীনদের সকল অপতৎপরতা ধোপে টিকছে না। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের গণমূখী নেতৃত্বে আজ পুরো বাংলাদেশ আবর্তিত ও ঐক্যবদ্ধ। জিয়া দম্পতির ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নামাজে জানাযায় দেশব্যাপী প্রায় পুরো জাতির অংশগ্রহণ ১৬ কোটি গণতন্ত্রকামী জনতার আন্দোলনেরই প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দেওলিয়াত্ব এবং জনবিচ্ছিন্নতার কারণে অবৈধ ক্ষমতাসীন প্রধান বর্তমানে ১৬ কোটি জনতার ‘ভোটাধিকার’ আদায়ের সফল দেশত্রেী বেগম খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতারের ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। আমরা ক্ষমতাসীনদেরকে সতর্ক করছি ‘এর পরিণাম দেশের ঐতিহ্যিক আর্থ-রাজনীতীর জন্য কখনো শুভ হবে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকামী জনতার বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ২০ দলীয় ঐক্যজোটের চলমান আন্দোলন, সংগ্রাম ও অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। আমরা জনপ্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল এবং সর্বোপরি সাংবিধানিক আচরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এই সংগ্রাম, অবরোধ বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের একার নয় বরং চলমান আন্দোলন সংগ্রাম দেশের লুন্ঠিত গণতন্ত্র পুনরোদ্ধারের, সুশাসন প্রতিষ্ঠার এবং ১৬ কোটি জনতার অধিকার বাস্তবায়নের। এই আন্দোলনে দেশের সকল গণমাধ্যমের শরিক হওয়া নৈতিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের চলমান দাবানলকে বন্দুকের নল দিয়ে মোকাবেলা করার নির্দেশ দিয়ে ক্ষমতাসীন প্রধান দেশকে অনিবার্য গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা ক্ষমতাসীনদেরকে সময় থাকতে সংযত হওয়ার এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার জোরালোভাবে আহ্বান করছি। চলমান সংকট উত্তরণের জন্য অবিলম্বে ক্ষমতাসীনদেরকে পদত্যাগ কারার জোর দাবী জানাচ্ছি এবং সাথে সাথে অবৈধ ক্ষমতাসীনদেরকে সার্বিকভাবে অসযোগিতা করার জন্য আমরা গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু তাই নয়, গণতন্ত্র ও আমজনতার ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় ঐক্যজোট ও গণমানুষের অংশগ্রহণে চলমান আন্দোলন, সংগ্রাম ও অবরোধ কর্মসূচীতে দেশের সকল গণমাধ্যম এবং জনপ্রশানের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান করছি। পরিশেষে, ক্ষমতাসীনদের মদদপুষ্ট পরিকল্পিত নাশকতা, বক্তব্য বিবৃতি ও হুমকি ধমকিতে বিভ্রান্ত না হয়ে ক্ষমতাসীন প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ২০ দলীয় ঐক্যজোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক বৃন্দকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান করছি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: