তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। হাজিরার ধার্য দিনে আদালতে না আসায় বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালত বৃহস্পতিবার এই পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া আদালতে না আসা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী তারিখে হাজির হতে বলা হয়েছে। না আসলে তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে বিচারক জানান।
আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে বাকি বক্তব্য উপস্থাপন ও তারেক রহমানের হাজিরার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে থাকা তারেক রহমান আদালতে না আসায় আবু জমাদারের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
অন্যদিকে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা হরতালের কারণে খালেদা জিয়া আদালতে আসতে পারেনি জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এবং সেদিন খালেদা জিয়া আদালতে আসতে না পারলে তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে আদালত জানান। এখন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ।
ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুদক।
মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: